শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সরেজমিনে উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা গ্রামে অভিযুক্ত রাজু ফকিরের বাড়িতে গিয়ে অনশনের বিষয়টির সত্যতা মিলেছে। ওই নারী গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ১০টা থেকে অনশনে বসেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা গ্রামের ওই নারীর সাথে একই গ্রামের আকরাম ফকিরের ছেলে রাজুর প্রায় পাঁচ বছর যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও পরিবারের মতবিরোধের কারণে ৩ বছর আগে একই গ্রামের যুবক হানিফের সাথে সামাজিকভাবে বিয়ে দেয় ওই নারীর পরিবার।
এদিকে বিয়ের পর থেকে প্রেমিক রাজু ওই নারীর সাথে সম্পর্ক রাখেন। সম্পর্ক না রাখলে রাজুর সাথে সেই সময়ের কিছু ছবি, ভিডিও ওই নারীর স্বামীর পরিবারকে জানিয়ে দিবেন বলে হুমকি দেন। সংসার টেকাতে নিয়মিত রাজুর সাথে পূর্বের ন্যায় গোপনে সম্পর্ক রেখে চলেন ওই নারী। স্বামী বাড়িতে না থাকলে ওই নারীর স্বামীর বাড়িতে যাতায়াত ছিলো রাজুর এমন অভিযোগও রয়েছে।
চলতি বছরের গত শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে ওই শারীরিক সম্পর্ক করতে ওই নারীর কাছে ঘরে যান রাজু। এ সময় ওই নারীর স্বামী হানিফ চলে আসলে রাজু তার জামা-প্যান্ট মোবাইল ও মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যান। এ সময় ওই নারীর পরিবার ডেকে স্থানীয়ভাবে ওই নারীকে তালাক দেন হানিফ।
এরপর গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে রাজু ও ওই নারীর পরিবারকে সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটির মীমাংসা হওয়ার কথা থাকলেও রাজুর পরিবার শালিসে হাজির হননি। এরপর বাধ্য হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজুর বাড়ি আফরা গ্রামে এসে রাজুর সাথে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন ওই নারী। তবে রাতে নারীর অবস্থান টের পেয়ে রাজু ও তার পরিবার পালিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাদিন্দারা জানান, রাজু ফকিরের সাথে ওই নারীর বিয়ের আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে ওই নারীর গ্রামে আরেকজনের সাথে বিয়ে হয়। কিন্তু রাজু ওই নারীর সাথে বিয়ের পরও পরকীয়া প্রেম করে আসছিলো। এখন তার স্বামীর সাথে তালাক হয়ে গেছে রাজুর কারণে, আমরা চাই রাজু তাকে বিয়ে করে ঘরে তুলে নিক।
অনশন করা ওই নারী বলেন, আমার সাথে বিয়ের আগে সম্পর্ক ছিলো কিন্ত পরিবার আমাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিলেও রাজুর কাছে থাকা আমাদের কিছু ছবি ভিডিও দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে হয়রানি করে। গত মার্চ মাসের ২৮ তারিখ শনিবার রাজুকে আমার ঘরে দেখে ফেলে আমার স্বামী। পরে আমাকে আমার স্বামী তালাক দিয়ে দেয়। এখন আমার যাওয়ার কোনো জায়গা নাই। আমাকে বিয়ের লোভ দেখাতো সে, তাই রাজুকেই বিয়ে করতে চাই। রাজু যদি আমাকে না নেয় তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.ওলি মিয়া বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আফরা গ্রামে একটি মেয়ে অনশন শুরু করেছেন বলে বিষয়টি জানতে পারি। তবে এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।