শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Channel18

সারা দেশ

নড়াইল অপরুপে সেজেছে রক্তিম কৃষ্ণচূড়ায়

নড়াইল অপরুপে সেজেছে রক্তিম কৃষ্ণচূড়ায়

ষড়ঋতুর এই দেশে ঋতুচক্রের ছোঁয়ায় প্রকৃতির বুকে ফোটে নানা রঙের ফুল। এসব ফুল প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে অপার সৌন্দর্যের আবরণে। নয়নাভিরাম এসব ফুলের সমারোহে প্রকৃতি হয়ে ওঠে আরো সজীব, আরো মোহনীয়।

গ্রীষ্মের শুরুতেই নড়াইলে প্রকৃতিতে ফুটেছে তেমনই এক মনভুলানো ফুল আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া। তপ্ত রোদ আর শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যেও প্রকৃতিতে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে এই অপরূপ ফুল। কৃষ্ণচূড়ার রঙিন ছোঁয়ায় গ্রীষ্মের প্রকৃতি হয়ে উঠেছে আরো আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত। প্রকৃতির এই চোখজুড়ানো সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন শিক্ষার্থী, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা, ফুলপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

জানা গেছে, কৃষ্ণচূড়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এটি একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এটি ফ্যাবেসি পরিবারের অন্তর্গত একটি শোভাবর্ধক বৃক্ষ। এই গাছ চমৎকার পত্র-পল্লব এবং আগুনলাল ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ।

এটি আগুনচূড়া, লালচূড়া বা গুলমোহর নামেও পরিচিত। কৃষ্ণচূড়া ফুল সাধারণত উজ্জ্বল লাল বা গাঢ় লাল রঙের হয়, যা দূর থেকে আগুনের শিখার মতো দেখায়। তবে এদের মধ্যে কমলা এবং হলুদ রঙের বৈচিত্র্যের প্রজাতিও দেখতে পাওয়া যায়। এ ফুলে পাঁচটি পাপড়ি থাকে। কৃষ্ণচূড়া সাধারণত বসন্তের শেষ দিকে ও গ্রীষ্মের শুরুতে প্রস্ফুটিত হয়ে প্রকৃতিকে উজ্জ্বল রঙে রাঙিয়ে তোলে।

সরেজমিনে নড়াইলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির আশপাশের কৃষ্ণচূড়া গাছজুড়ে ফুটেছে গাঢ় লাল রঙের ফুল। ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে সবুজ প্রকৃতি। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকে যেন লাল আগুন জ্বলে উঠেছে। নজরকাড়া সৌন্দর্য নিয়ে ফোটা এ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন সববয়সী মানুষ।

এ ফুলের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে কেউ কেউ মোবাইল ফোনে স্মৃতি ধরে রাখছেন। কেউ বা আবার ফুলসমেত নিজেকে ক্যামেরাবন্দী করছেন। কিশোরী ও তরুণীরা তাদের চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে এ ফুল খোঁপায় ও বেনিতে ব্যবহার করছেন। শিশুদের হাতেও শোভা পাচ্ছে এ ফুল।

ফুলপ্রেমী মৌসুমি বলেন, কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটলে মনে হয় গ্রীষ্ম সত্যিই এসে গেছে। এই ফুলের রঙ আর সৌন্দর্য আমাদের মন ভালো করে দেয়। ব্যস্ততার মাঝেও কিছু সময় গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলে এক ধরনের প্রশান্তি পাওয়া যায়। এ সময়টায় বাইরে বের হলেই যত্রতত্র চোখে পড়ে কৃষ্ণচূড়ার রঙিন ফুল।

ধোপাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মিম খাতুন বলেন, আমাদের এলাকায় কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। এসব গাছে যখন ফুল ফুটে, তখন পুরো পরিবেশটাই যেন রঙিন হয়ে ওঠে। কৃষ্ণচূড়ার রঙিন এ দৃশ্য দেখতে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণ-তরুণীরা এই সময় গাছের নিচে ছবি তুলতে বেশি আগ্রহী হয়।

আরেক ফুলপ্রেমী ও কলেজ প্রভাষক প্রফুল্ল কুমার বলেন, কৃষ্ণচূড়া শুধু একটি ফুল নয়, এটি আমাদের আবেগের সাথে জড়িয়ে আছে। এই সময়টায় প্রকৃতির প্রতিটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। চলতি পথে এ ফুল চোখ কেড়ে নেয়, ভরিয়ে দেয় মন। যেকোনো বয়সী মানুষই এই সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হচ্ছে। আমাদের কলেজের প্রধান ফটকের সামনেও একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। আমরা এর সৌন্দর্য উপভোগ করি।

লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েসের নড়াইল জেলার সহ সমন্বয়ক কামরুন্নাহার লীনা বলেন, শুধু সৌন্দর্য নয়, কৃষ্ণচূড়া গাছ পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই গাছ ছায়া দেয় এবং গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে পথচারীদের কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। এ সময়টায় কৃষ্ণচূড়া গাছ ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে। এ ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতিও সেজে উঠেছে অপরূপ সাজে।

পরিবেশ কর্মী ও গ্রীন ভয়েসের সদস্য সোহেল রানা লাক্সমী বলেন, কৃষ্ণচুড়া ফুল আমার একটা প্রিয় ফুল, এর সৌন্দর্য আমাকে বিমোহিত করে, তবে আমাদের প্রকৃতি থেকে দিন দিন এই গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরূপ। নতুন করে কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান তিনি।

পরিবেশ কর্মী ও গ্রীন ভয়েসের উপদেষ্টা সদস্য লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামান বলেন, এ সময়টায় কৃষ্ণচূড়া ফুল প্রকৃতিকে রঙিন করে তুলেছে। এর সৌন্দর্য সবাইকে টানছে। বিশেষ করে ফুলের ওপর রোদ পড়লে এর সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পায়। আসা-যাওয়ার পথে এ ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হই।

লোহাগড়ার দিঘলিয়া কলেজের অধ্যক্ষ মো: মোশাররফ হোসেন মোল্লা বলেন, কৃষ্ণচূড়া শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এর কিছু ঔষধি গুণাগুণও রয়েছে। ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্রে কৃষ্ণচূড়া গাছের পাতা ও ফুল বিভিন্ন ভেষজ প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে শরীরের প্রদাহ কমানো, ক্ষত শুকানো এবং কিছু ত্বকের সমস্যায় এর নির্যাস উপকারী বলে বিবেচিত।

তিনি আরো বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে এ ধরনের গাছপালা মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন দেশীয় বৃক্ষ রোপণে যার যার জায়গা থেকে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।###

হাফিজুল নিলু 
নড়াইল

আরও

সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশ ব্যারাকে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

সারা দেশ

সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশ ব্যারাকে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত এএসআই (নিরস্ত্র) মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকী (৫৩) হৃদরোগে মারা গেছেন। শুক্রবার (২৪ এ...

২০২৬-০৪-২৫ ১৫:৩৮

খুলনার তেরখাদায় ধান কাটা নিয়ে  সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

সারা দেশ

খুলনার তেরখাদায় ধান কাটা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

খুলনার তেরখাদায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নুর আলম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চারজন। তা...

২০২৬-০৪-২৫ ১৫:৩৬

মেহেরপুরে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তেল পাম্প পরিদর্শনে সংসদ সদস্য

সারা দেশ

মেহেরপুরে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তেল পাম্প পরিদর্শনে সংসদ সদস্য

মেহেরপুরে তেল পাম্পগুলো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তেল পাম্প পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান।

২০২৬-০৪-২৫ ১৫:২৮

সিরাজদিখানে রশুনিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

সারা দেশ

সিরাজদিখানে রশুনিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় রশুনিয়া খাল পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান...

২০২৬-০৪-২৫ ১৫:২৩

বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হচ্ছে ১৪৫তম খুলনা দিবস

সারা দেশ

বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হচ্ছে ১৪৫তম খুলনা দিবস

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনার সভার মধ্য দিয়ে খুলনায় পালিত হচ্ছে খুলনা দিবস। ‘বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন স...

২০২৬-০৪-২৫ ১৫:১৯

জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির ফলে বাসভাড়া ও নিত্যপণ্যের মূল্য নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর সুযোগ নেই- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

সারা দেশ

জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির ফলে বাসভাড়া ও নিত্যপণ্যের মূল্য নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর সুযোগ নেই- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরেই ব্যক্তিখাতের শিল্প কারখানায় বিতরণ করা হয়। তাই...

২০২৬-০৪-২৫ ১৫:১৬