শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে কাঠমান্ডুর ভক্তপুরের নিজ নিজ বাসভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং তার মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার ঠিক এক দিন পরেই এই নাটকীয় ঘটনা ঘটল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের পরই বিক্ষোভে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয় এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, এই দমনপীড়নের ঘটনায় জড়িত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এ-সংক্রান্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী গ্রেপ্তার ও তদন্তের তালিকায় আরও রয়েছেন, সাবেক আইজিপি চন্দ্র কুবের খাপুং, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব গোকর্ণ মণি দাওয়াদি, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) প্রধান রাজু আরিয়াল ও জাতীয় তদন্ত বিভাগের সাবেক প্রধান হুতরাজ থাপা।
সাবেক বিশেষ আদালতের বিচারক গৌরী বাহাদুর কারকির নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই অ্যাকশন শুরু হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অলি এবং রমেশ লেখকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সহিংসতা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও তা দমনে চরম অবহেলা ও বেপরোয়া আচরণ করেছেন।
কমিশন তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় দণ্ডবিধির ১৮১ ও ১৮২ ধারা অনুযায়ী ‘অপরাধমূলক অবহেলা’র অভিযোগে মামলা করার সুপারিশ করেছে। এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান আইজিপি দান বাহাদুর কারকিসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে, যা তাঁদের পদোন্নতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।