সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কুমারখালী থানার হাজতখানায় এ ঘটনা ঘটে। থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এ ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ইকবাল শেখ উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকার মৃত ইসলাম শেখের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে স্পেশাল ডিউটি চলাকালে সন্দেহজনক অবস্থায় পাঁচটি মুরগিসহ ইকবাল শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল এবং মুরগিগুলোর বিষয়ে তিনি সঠিক কোনো তথ্য বা প্রমাণ দিতে পারেননি। পরে সকাল ৬টার দিকে তাকে আটক করে থানার হাজতখানায় রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হাজতখানায় নিজের পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ইকবাল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তিনি প্রথমে লুঙ্গি ছিঁড়ে থানার হাজতখানার দেয়ালে থাকা লোহার গ্রিলে সেটি বাঁধেন এবং গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর কিছুক্ষণ পর আবারও ফাঁস নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় হাজতে থাকা আরেক আসামি বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার দেন। তার চিৎকার শুনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হাজতখানায় গিয়ে ইকবালকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ইকবাল শেখের কাছে পাঁচটি মুরগি দেখে সন্দেহ হওয়ায় তাকে আটক করে থানার হাজতে রাখা হয়েছিল। পরে হাজতখানায় নিজের লুঙ্গি ছিঁড়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পুলিশের তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।
ওসি আরও জানান, হাজতখানায় আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় ইকবাল শেখের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।