বাসে জায়গা না পেয়ে ঘরমুখো শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে গন্তব্যে ফিরছেন। সেই সঙ্গে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে মোট টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সেতুর দুই পাড়ে ১৮টি টোল বুথ সচল রাখা হয়েছে এবং জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে মহাসড়কের রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষ বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। ঘরমুখো যাত্রী রফিকুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করেও কোনো বাসে উঠতে পারেননি। একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে রাস্তার ধুলাবালিতে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী রুমা বেগম অভিযোগ করেন, স্বাভাবিক সময়ের ১০০ টাকার ভাড়া এখন ৩০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। মাদ্রাসার ছাত্র হুমায়রা জানান, দূরপাল্লার বাসগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই, যার ফলে নিরুপায় হয়ে মানুষ ট্রাক বা পিকআপের যাত্রী হচ্ছেন।
কালিহাতী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, "মহাসড়কের কোথাও কোনো যানজট নেই। সাত শতাধিক পুলিশ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।" বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।