ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এমআরটি লাইন-৬)-এর প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওহাব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরুর আগে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ট্রায়াল রান শুরু হবে। পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমে খালি ট্রেন উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো রুটে চলাচল করবে। নিয়মিত যাত্রীসেবা শেষ হওয়ার পর রাতের বেলায় এসব পরীক্ষা পরিচালিত হবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সম্প্রসারণ অংশের প্রায় ৭৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই অংশে একটি নতুন স্টেশন, ভায়াডাক্ট ও রেললাইন নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
কমলাপুর স্টেশনের মূল কাঠামোগত কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পাইল, পাইল ক্যাপ, পিয়ার, স্টেশন কলাম, প্রিকাস্ট কাঠামো, কনকোর্স ছাদ, প্ল্যাটফর্ম ও ট্র্যাক স্ল্যাব, প্যারাপেট ওয়াল এবং স্টিলের ছাদ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
এখন চলছে স্টেশনের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও প্রযুক্তিগত স্থাপনার কাজ। দেয়ালে টাইলস বসানো, স্থায়ী কাচ স্থাপন, রঙের কাজের পাশাপাশি শিগগিরই স্বয়ংক্রিয় প্ল্যাটফর্ম দরজা, সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপন শুরু হবে। কর্মকর্তাদের আশা, আগামী দুই মাসের মধ্যেই ট্র্যাক বসানোর কাজও শেষ হবে।
এদিকে উত্তরা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে প্রয়োজনীয় ২৯৮টি প্রিকাস্ট সেগমেন্টের মধ্যে ১০০টির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬-এর মোট দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার। ২০২৩ সালের নভেম্বরে উত্তরা থেকে মতিঝিল অংশে বাণিজ্যিকভাবে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হয়। নতুন করে কমলাপুর পর্যন্ত রুট চালু হলে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত রেলস্টেশনের সঙ্গে রাজধানীর দ্রুতগতির গণপরিবহন ব্যবস্থার সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে, যা যাত্রীদের যাতায়াতকে আরও সহজ, দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করবে।