হে মানুষ, ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়াও, পরস্পরের মধ্যে সালামের প্রচলন করো, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতে নামাজ আদায় করো। এসব আমলের মাধ্যমে তোমরা শান্তির সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। (বুখারি)
নৈতিকতা পরিপূর্ণ করার বার্তা
বিভিন্ন পর্যায়ের সমাজ সংগঠক ও নেতারা মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মানবকল্যাণে মানুষের সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগানোর সক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার বার্তার ব্যাপারে ছিলেন আন্তরিক এবং সুদৃঢ় বিশ্বাসের অধিকারী। তাই অন্যদের কাছে কোনো বিষয় তুলে ধরার আগে তিনি তা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতেন। তার আন্তরিকতা চেহারা, আচরণ ও অঙ্গভঙ্গিতে ফুটে উঠত। ফলে তার কথা ও বার্তার প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হতো।
তার বার্তার মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের কল্যাণ। আর মদিনার নতুন সমাজে প্রবেশের সময় তার প্রথম কথাগুলোতেও সেই বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছিল।
ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানো
খাদ্য মানুষের বেঁচে থাকার অপরিহার্য উপাদান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত। মানুষের ক্ষুধার কষ্ট লাঘব না করে কোনো সমাজ বা দেশের পক্ষে অন্যান্য সমস্যার কার্যকর সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক মানুষ যেন প্রতিদিনের খাবার নিশ্চিতভাবে পায়, তা নিশ্চিত করা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।
সালাম দেওয়া
রাস্তায় কারো সঙ্গে দেখা হলে, শ্রেণিকক্ষে, কর্মস্থলে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে পরস্পরকে আন্তরিকভাবে সালাম দেওয়া মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অজ্ঞতা থেকেই অনেক সময় বিদ্বেষের জন্ম হয়। আর পরস্পরকে সালাম দেওয়া একে অন্যকে জানার সুযোগ তৈরি করে। এতে উত্তেজনা কমে এবং পারস্পরিক আলোচনার পথ তৈরি হয়।
সালাম দেওয়ার মাধ্যমে মূলত প্রত্যেকের জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি কামনা দোয়া করা হয়।
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পরিবার ও আত্মীয়স্বজন গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিত্তি। পরিবার যত বড় ও বিস্তৃত হয়, তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক অনেক সময় ততটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে কেউ কেউ নিজেকে একা, অসহায় ও কোনো ধরনের সহযোগিতা বা নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া মনে করতে পারেন। পরিবারের মধ্যেই ছোট ছোট গোষ্ঠী তৈরি হতে পারে, ক্ষমতা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে এবং ধীরে ধীরে মানুষ একে অন্যের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে পারে।
নিয়মিতভাবে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, এমনকি দূরের আত্মীয়দের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও একে অন্যের প্রতি সম্মানবোধ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করে।
এতে প্রত্যেক মানুষের মনে এই অনুভূতি তৈরি হয় যে, কোথাও না কোথাও তার আপনজন রয়েছে, সে কারও সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির কল্যাণে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সুযোগও অনেক সহজ হয়েছে। ফলে আমরা সহজেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারি।
মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায়
ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানো, পরস্পরকে সালাম দেওয়া ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সঙ্গে রাতের নামাজকে একইভাবে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে মহানবী (সা.) আমাদের আত্মিক ও পার্থিব জীবনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তুলে ধরেছেন।
রাতে নামাজ আদায়ের বিশেষ একটি তাৎপর্য রয়েছে। রাতের নীরব সময়ে যখন মানুষ একাকী থাকে, তখন তা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় হতে পারে।
আল্লাহর সঙ্গে এই আত্মিক সম্পর্ক এমন এক শক্তির উৎস, যা অন্য মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের কল্যাণে কাজ করার শক্তি জোগায়।