শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারতে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি পিস কনডম উৎপাদিত হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। কনডম তৈরির প্রধান কাঁচামাল সিলিকন অয়েল এবং অ্যামোনিয়ার সরবরাহ যুদ্ধের কারণে সামুদ্রিক পথে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একদিকে লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে ল্যাটেক্স প্রসেসিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি প্যাকেজিংয়ের জন্য অপরিহার্য অ্যালুমিনিয়াম ও পিভিসি ফয়েলের মূল্যবৃদ্ধিও উৎপাদন খরচকে বাড়িয়ে তুলছে।
পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটগুলো জ্বালানি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে রিসোর্স অ্যালোকেশন বা কাঁচামাল বরাদ্দ প্রায় ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। সরকারি প্রতিষ্ঠান এইচএলএল (HLL) লাইফকেয়ার-সহ অন্যান্য উৎপাদনকারীদের ওপর এই সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে মুম্বাই ও দিল্লির মতো বড় শহরগুলোর ফার্মেসিগুলোতে পণ্যটির সরবরাহে ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বাজারে পণ্যটির সহজলভ্যতা কমে গেলে বা দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষ এর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হতে পারে। এটি কেবল পরিবার পরিকল্পনাকেই ব্যাহত করবে না, বরং যৌনবাহিত রোগের (STI) ঝুঁকি বাড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মূলত বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা কীভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন এবং অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, এটি তারই এক নজিরবিহীন উদাহরণ।