কোনো ধরনের দালাল, তদবির কিংবা অনিয়ম ছাড়াই তারা ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন পুরুষ ও একজন নারী প্রার্থী। সরকারি ফি বাবদ মাত্র ৫৬ টাকা দিয়েই তারা সম্পন্ন করেছেন পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া।
সোমবার রাতে মেহেরপুর পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। ফলাফল ঘোষণার সময় চাকরিপ্রত্যাশী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নির্বাচিত প্রার্থীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সাধারণ পরিবারের সন্তানদের এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়ার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন উপস্থিত অভিভাবকরাও।
জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টায় লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৩৮ জন প্রার্থী। পরে তারা মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। সব ধাপের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে মেধা, শারীরিক সক্ষমতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ১২ জনকে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
চাকরি পাওয়া কয়েকজন তরুণ জানান, দীর্ঘদিন ধরে সমাজে প্রচলিত ছিল পুলিশে চাকরি পেতে হলে বিপুল অর্থ ব্যয় কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশ প্রয়োজন হয়। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তারা। কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা ছাড়াই নিজেদের যোগ্যতায় চাকরি পাওয়ায় তারা গর্বিত ও আনন্দিত। তারা বলেন, সৎভাবে চেষ্টা করলে সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব—এই নিয়োগ প্রক্রিয়া তারই প্রমাণ।
অভিভাবকরাও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলেন, দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য এ ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম আশার আলো দেখাচ্ছে। আগে চাকরি নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ শোনা গেলেও এবার তারা বাস্তবে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছেন।
নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর আগেই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চাকরিপ্রত্যাশীদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। স্থানীয় ডিশ চ্যানেল, সংবাদপত্র, মাইকিং এবং জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সবাইকে দালাল ও প্রতারক চক্র সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি—কেউ যেন দালালের খপ্পরে না পড়ে। কঠোর তদারকি ও শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে এখন মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ পরিবারের ছেলে-মেয়েরাও স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাচ্ছে। মাত্র ৫৬ টাকায় পুলিশে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি সরকারের স্বচ্ছ নিয়োগ নীতিরই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. মিনহাজ-উল-ইসলাম এবং কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। তারা নিয়োগ কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন এবং পুরো প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে দায়িত্ব পালন করেন।