চিকিৎসা সেবা দিতে দায়িত্বে থাকা আহসানুল হক বলেন, সূচনালগ্ন থেকে এখানে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে রোগীকে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়। একবার রেজিষ্ট্রেশন করলে দীর্ঘদিন ফ্রী চিকিৎসা সেবা নিতে পারবে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ২ টাকা রেজিষ্ট্রেশন ফি নেওয়া হতো।রেজিস্ট্রেশন ফি ২ টাকা থেকে পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে বেড়ে ৩ টাকা, ৫ টাকা, ১০ টাকা,২০ টাকা এবং এখন ৩০ টাকা করে নেওয়া হয়। রেজিষ্ট্রেশন ফি থেকে আয়ের টাকাগুলো ওষুধ কেনার কাজে ব্যয় করা হয়। তিনি আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় চাঁদপুর জেলার ফরাযীকান্দি উপজেলার ওয়াসীয়া শরীফ। এখান থেকে ১৯৭৮ সালে সারা দেশে বেশ কয়েকটি এধরণের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিলো। ইতিমধ্যেই অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। তবে যোগ্য নেতৃত্বের কারণে এখানে এই প্রতিষ্ঠানটি এখনো টিকে আছে। এটা পীর ও সূফী সাহেবদের প্রতিষ্ঠান। তাদের দোয়া ও বরকতে অনেকের রোগ ভালো হয়।
চিকিৎসক মোকাদ্দাম বাশার চাঁদু বলেন, তার বাবা মরহুম সুজায়েত হোসেন বিশ্বাস ক্লিনিকটি এখানে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে সে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।
এখানে প্রতি শুক্রবারে দূরদূরান্ত থেকে অনেক রোগী আসেন। বিশেষ করে যারা হতদরিদ্র ও গরীব মানুষ আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারেন না তারা মূলত এখানে আসেন।
মাঝে মাঝে রোগীদের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তখন চিকিৎসা প্রদানের জন্য আরও অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক রাখা হয়। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় এই ক্লিনকটি চলছে। বর্তমানে ওষুধের মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। এ কারণে ক্লিনিকটি চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মহেশপুর উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা খাদিজা বেগম জানান, কোমরে ব্যাথাসহ শরীরে অনেক রোগ আছে। অনেক জায়গায় ওষুধ খেয়ে দেখেছি ভালো কাজ হয়নি। পরে এখান থেকে ওষুধ খেয়ে ব্যাথা কিছুটা নরম পড়েছে। আজ প্রায় ২ বছর ধরে এখান থেকে ওষুধ খাচ্ছি। এখানকার চিকিৎসকরা আমাদের সমস্যার কথা দীর্ঘক্ষণ ধরে মনোযোগ সহকারে শোনেন। এবং ভালো ওষুধ দেয়।
দামুড়হুদা উপজেলা থেকে আসা বিলকিস খাতুন নামের এক ষাটোর্ধ বৃদ্ধা জানান, গলায় টিউমার হয়েছে আজ ৩ বছর। আমরা গরীব মানুষ অপারেশন করার টাকা নেই। বাইরে থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ারও সামর্থ্য নেই। তাই এই নেদায়ে ইসলাম থেকে প্রতি শুক্রবার ফ্রি ওষুধ নিয়ে যায়। এখান থেকে ওষুধ খেয়ে আল্লাহর রহমতে জ্বালাযন্ত্রণা ও ব্যাথা কম হয়েছে।
মেহেরপুর থেকে আসা রোগী আব্দুল খালেক বলেন, এখন কোনো রোগের কারণে ডাক্তারের কাছে গেলো অনেকগুলো পরীক্ষা করতে দেয়। অনেক ওষুধ লিখে দেয়। এত ব্যয় বহন করতে গেলে গরু-ছাগল, জমিজমা বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকে না। এই নেদায়ে ইসলামের ফ্রী চিকিৎসার কারণে আমাদের মত গরীব মানুষের অনেক উপকার হয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য এলাকাবাসী নেদায়ে ইসলামের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এবং তাদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।