নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার, প্যারিসের শঁজেলিজে, বার্সেলোনার লা রামব্লা’র মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কেনাকাটার গন্তব্যে রূপ নিতে যাচ্ছে লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিট। বহু নামীদামী ব্র্যান্ডের দোকান, বাসিন্দাদের আড্ডাস্থলের জন্য বিখ্যাত এই সড়ক। যেখানে পাঁচ লাখের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে প্রতিদিন। যদিও করোনা পরবর্তী সময়ে ভাটা পরে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের।
এই অঞ্চলটির পুনরুদ্ধার ও অর্থনৈতিক গতি ফিরিয়ে আনতে ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড স্ট্রিটের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ যানবাহনমুক্ত করা হয়েছে। দু’দশকের আলোচনা ও পরিকল্পনার পর সড়কটিতে অবশেষে স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে বাস, গাড়ি, ট্যাক্সি, সাইকেল, স্কুটার চলাচল।
সড়টিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কেনাকাটার গন্তব্যে পরিণত করাই লক্ষ্য বলে জানান লন্ডনের মেয়র সাদিক খান।
তিনি বলেন, ‘যখন কোনো সড়ককে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত ও উপযুক্ত করে তোলা হয়, তখন সেখানে সবার আনাগোনা বাড়ে। পথচারীরা সেখানে বেশি সময় কাটায়, খরচ বেশি করে এবং এর ফলে অপরাধও কমে আসে। আমি বিশ্বাস করি, একটি সবুজ ও নিরাপদ অক্সফোর্ড স্ট্রিট শহরকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে।’
সড়কটি আপাতত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও ২০২৭ সালের মধ্যে অর্ধশতাধিক নতুন গাছ, শতাধিক বসার আসন, দু’টি পাবলিক স্কোয়ার, উন্নত সাইনবোর্ড ও আলোর ব্যবস্থা যুক্ত হচ্ছে। গোটা সড়কটি হবে পরিবেশবান্ধব।
সাদিক খান বলেন, ‘অক্সফোর্ড স্ট্রিটের বাসিন্দা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কাউন্সিল ও খুচরা বিক্রেতা সবার সঙ্গে মিলে বায়ুর গুণমান, পরিবেশ, যান চলাচল ও পরিবহন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। স্থানীয়ভাবে এর প্রভাব পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এমন একটি সড়ক তৈরি করা হবে যা কেবল অতীতের মধুর স্মৃতি নয়, বরং ভবিষ্যতেও তা টিকে থাকবে।’
অক্সফোর্ড স্ট্রিট শুধু কেনাকাটার জন্য নয়, বাসিন্দাদের অবসর কাটানো ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উপযোগী হবে। এই সড়কের যুক্ত রয়েছে ব্রিটেনের দীর্ঘ বাণিজ্যিক ইতিহাস।