স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী জানান, শনিবার সকাল ১১টার দিকে লালমাই পাহাড়ের ওই এলাকায় বাঁশ কাটতে গিয়ে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন অপ্রতীমকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
অপ্রতীম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী পেশায় দিনমজুর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাঁশ কাটতে জঙ্গলে যাচ্ছিলাম। একপর্যায়ে আমার সঙ্গে থাকা ভাতিজা বলে ওঠে, “কাকা, একটা বাচ্চা পড়ে আছে।” পরে দেখি, মাথার দিকে রক্ত। আমরা ভয় পেয়ে যাই। এরপর বাঁশ না কেটে ফিরে আসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সড়কে ওঠার পর মামুন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয়। তাকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ছেলে গতকাল থেকে নিখোঁজ। পরে মামুনকে নিয়ে আবার ঘটনাস্থলে যাই। তিনি তাকে দেখেই শিক্ষকের ছেলে বলে শনাক্ত করেন।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অপ্রতীমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখনো পাওয়া যায়নি।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল বলে পরিবার জানিয়েছে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।