বাতূাসংস্থা রয়টার্স বলছে, ড্রোন হামলার পর রাজধানীর শুওয়াইক তেল খাত কমপ্লেক্সে আগুন লেগে যায় বলে কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে। এই কমপ্লেক্সে তেল মন্ত্রণালয় এবং কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।
রোববার ভোরে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে এই তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ইরানের একটি ড্রোন সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর অফিস কমপ্লেক্সে আঘাত হানে, এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় জানায়, দুটি বিদ্যুৎ ও পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে এবং দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট অচল হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই হামলার ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এই সংঘাতে তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে। মূলত যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, সেখানেই হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকির জবাব দিচ্ছে। সামরিক বাহিনী এক পোস্টে জানায়, ‘কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকির মোকাবিলা করছে।
তারা আরও জানায়, বিস্ফোরণের যেসব শব্দ শোনা যাচ্ছে তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ফল।
কুয়েতের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী কুয়েত সিটির সরকারি মন্ত্রণালয় কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। শনিবার রাতে এই হামলা হয়। জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এমন অবস্থায় রোববার সরকারি কর্মীদের দূর থেকেই কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয় এবং সোমবার থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার মধ্যে অফিস খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
আলাদা ঘটনায় শুওয়াইক তেল খাত কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলার পর আগুন লাগে বলে জানিয়েছে কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। তবে সেখানে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই পুরো অঞ্চল উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিও রয়েছেন।
পাল্টা হামলায় ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে সেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলেও প্রভাব ফেলেছে।