শুক্রবার (১৫ মে) উপজেলার সিইউএফএল সড়ক ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় সারকারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) সড়কের প্রায় পৌনে এক কিলোমিটারজুড়ে একপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল ফুলে মুগ্ধ ছোট-বড় সবাই। রোদের আলো পড়লেই জ্বলজ্বল করে ওঠে কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন গাছে আগুন লেগেছে।
বিকেল গড়াতেই দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করতে থাকেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে আসেন, আবার কেউ চলার পথে গাড়ি থামিয়ে উপভোগ করেন এই সৌন্দর্য। সন্ধ্যা হলেই মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নানা বয়সি মানুষ সেখানে ছুটে আসেন। লাল কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে স্মৃতি ধরে রাখতে তুলছেন ছবি ও সেলফি।
বাঙালির কবিতা, সাহিত্য, গান ও নানা উপমায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। শোভাবর্ধনকারী এই বৃক্ষটি এখনও গ্রামবাংলার পাশাপাশি বিভিন্ন জনপদের সড়কের পাশে টিকে আছে আপন মহিমায়।
জানা যায়, কৃষ্ণচূড়ার আদিনিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। বিদেশি এই ফুল সময়ের পরিক্রমায় বাঙালির সংস্কৃতি ও আবেগের অংশ হয়ে উঠেছে। অনেকে মনে করেন, রাধা ও কৃষ্ণের নামের সঙ্গে মিল রেখেই এর নাম হয়েছে ‘কৃষ্ণচূড়া’। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মোহনীয় রক্তিম আভা। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা লাল ফুল এতটাই দৃষ্টিনন্দন যে, পথচারীরাও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
প্রকৃতিকে রক্তিমতায় মাতিয়ে রাখা এই বৃক্ষের উচ্চতা সাধারণত খুব বেশি হয় না। তবে শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত থাকে বড় এলাকা জুড়ে। গ্রীষ্মজুড়ে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে রাখলেও বছরের অন্য সময়গুলোতে গাছটি অনেকটাই নিভৃত থাকে। এপ্রিল মাসে গ্রীষ্মের শুরুতেই সবুজের বুক চিরে ফুটে ওঠে লাল কৃষ্ণচূড়া। তখন প্রকৃতির সৌন্দর্যে যোগ হয় নতুন মাত্রা।
জান্নাতুল মিশু নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে সিইউএফএল সড়কের কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রতিবছর এ সময় এখানে ঘুরতে আসি। নিজের চোখে ফুলের সৌন্দর্য দেখতে খুব ভালো লাগে। জায়গাটি সত্যিই অনেক সুন্দর।
জাহিদ হৃদয় নামের এক গণমাধ্যমকর্মী বলেন, সন্ধ্যার সময় এই সড়কের পরিবেশ অসাধারণ লাগে। কর্ণফুলী নদীর তীরে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালুর ফুল মনকে প্রফুল্ল করে তোলে। সুযোগ পেলেই আমরা এখানে ঘুরতে আসি।
চট্টগ্রাম নগরী থেকে আসা দর্শনার্থী পাবেল শাহরিয়ার বলেন, লোকমুখে শুনে এখানে কৃষ্ণচূড়া দেখতে এসেছি। শহরেও এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। হালকা বাতাসে ফুলগুলো দুলছে, যা পরিবেশকে আরও মোহনীয় করে তুলেছে।
চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (সিইউএফএল) কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সড়ক। মানুষের যাতায়াত ও শ্রমিকদের জন্য মনোরম পরিবেশ তৈরি করতেই গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে। গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে নিরাপত্তারক্ষীরা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে কিছু গাছ মারা গেলেও আগামী বর্ষায় নতুন করে গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।