নিহত শাহ আলম সংসারদিঘী দুবিলা গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে চলছিল টানাপোড়েন। কিছুদিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং এ নিয়ে এলাকায় সালিস বৈঠকও হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে জুট মিলের পাশের জমিতে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী এগিয়ে যান। কাছে গিয়ে গলা কাটা অবস্থায় শাহ আলমকে শনাক্ত করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
বিহার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য শাহজাহান আলী বলেন, “শাহ আলম আমাদের এলাকার মানুষ ছিলেন। পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেও শুনেছি। সকালে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই।”
খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে।
শিবগঞ্জ থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান জানান, “এটি হত্যাকাণ্ড কিনা এবং কারা জড়িত—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
নির্জন জমিতে পড়ে থাকা এক কৃষি শ্রমিকের রক্তাক্ত নিথর দেহ এখন এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পারিবারিক বিরোধ, নাকি অন্য কোনো শত্রুতা—শাহ আলম হত্যার পেছনের কারণ জানতে অপেক্ষায় স্থানীয়রা।