শৈশব থেকেই পারিবারিক সূত্রে গানের আবহে বেড়ে ওঠা এই গুণী শিল্পীর। সংগীতে তার প্রথাগত তালিম ও দীর্ঘ সাধনা তাকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। প্রেম, বিরহ, আনন্দ কিংবা দেশপ্রেম প্রতিটি অনুভূতির গানেই তার গায়কি পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রে ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গানটির মাধ্যমে রূপালী পর্দায় তার সুরের যাত্রা শুরু হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে; একে একে গেয়েছেন একের পর এক কালজয়ী গান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে ধারণ হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি গান, যার মধ্যে প্রায় দেড় সহস্রাধিক চলচ্চিত্রের।
দেশের চলচ্চিত্রে তার দীর্ঘ পদচারণা তাকে বানিয়েছে বাংলা সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী কাণ্ডারি। রেডিও-টেলিভিশনের স্বর্ণযুগ পেরিয়ে আজকের ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগেও তার গানের আবেদন এতটুকু কমেনি। শুধু চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক গানই নয়, দেশাত্মবোধক গানেও তার অবদান অবিস্মরণীয়।
মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার গল্প তার গায়কিতে রূপ নিয়েছে জনমানুষের আবেগে। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৪ সালে ‘একুশে পদক’ এবং ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদকে’ ভূষিত হন তিনি। এছাড়া রেকর্ডসংখ্যক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ের গৌরবও তার দখলেই।