অন্যথায় ওলামা অ্যালায়েন্সসহ জুলাই বিপ্লবের সব অংশীজন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৃহত্তর রাজপথের দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আন্দোলন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে সরকার চাইলে এখনো সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
সোমবার রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুব্বা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিকবিশ্লেষণ
জুলাই বিপ্লবের চেতনা বিক্রি করে কেউ রাজনীতি করছে না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল—রাষ্ট্র সংস্কার, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা—সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে। সরকার যদি এটিকে ‘জুলাই চেতনা বিক্রি’ বলে, তাহলে তা তাদের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা; তবে জনগণ বাস্তবতা জানে।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুফল বর্তমান সরকার পেয়েছে। বিপ্লবের কারণেই তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। অথচ ক্ষমতায় এসে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তারা ব্যর্থ হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আন্দোলনের বিভিন্ন অংশীজনের অবদান মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ১৮ থেকে ২০ জুলাই যখন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনে নতুন গতি এনে দিয়েছিল।
২০১৩ সালের আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্রসমাজের বৃহত্তর ঐক্য তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের যেকোনো জাতীয় সংকটে এই ঐক্য বজায় থাকবে এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
ওলামায়ে কেরাম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ওলামাদের ভূমিকা ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গিবাদ’ তকমা দিয়ে দমন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘রক্তাক্ত জুব্বা’ শুধু জুলাই বিপ্লবের প্রতীক নয়, বরং গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর নির্যাতনেরও প্রতীক। এই জুব্বা বিদ্রোহ ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে ভবিষ্যতেও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই বিপ্লব, শাপলা আন্দোলন এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা দিতে হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার একদিকে রাষ্ট্রপতির আদেশকে অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী বলছে, অন্যদিকে সেই রাষ্ট্রপতিকেই বহাল রেখেছে। একইভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যদি সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেটিকে শুধু সংবিধানের ভাষায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়; বরং জনগণের রায় ও আকাঙ্ক্ষার আলোকে তা মূল্যায়ন করতে হবে।