রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আবদুল হান্নান মাসউদ দাবি করেন, সরকারি কাজে চেয়ারম্যানঘাটে পৌঁছানোর আগেই ফেরিটি প্রায় দুই মিনিট আগে ঘাট ছেড়ে যায়। তবে তখনও ফেরিটি খুব বেশি দূরে যায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে এনে তাকে ওঠার ব্যবস্থা করে।
তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেরি ছাড়া অন্য সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে বিকল্প কোনো উপায়ে গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। এ পরিস্থিতিতে ফেরি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে।
সমালোচনার বিষয়ে এমপি বলেন, একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, ফেরিটির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ ফেরির মাস্টারকে ফোন করে তার আসার বিষয়টি জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফেরির আগের মাস্টার সম্প্রতি বদলি হওয়ায় নতুন মাস্টারের মোবাইল নম্বর তার কাছে ছিল না। ফলে নির্ধারিত সময়েই ফেরিটি ঘাট ছেড়ে যায়।
তিনি বলেন, ঘাট ছাড়ার কিছুক্ষণ পর এমপি চেয়ারম্যানঘাটে পৌঁছান। তখন তার অনুরোধে ঘাট ইনচার্জের মাধ্যমে ফেরির মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে এনে এমপিকে ওঠানো হয়।
সাজ্জাদুল ইসলাম আরও জানান, রোগী, অ্যাম্বুলেন্স ও ভিআইপিদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে ওই সময় ফেরি ছাড়া অন্য কোনো নৌযান চলাচল করছিল না।
উল্লেখ্য, চেয়ারম্যানঘাট ছেড়ে যাওয়ার পর ফেরি ঘুরিয়ে এমপিকে তোলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে সমালোচনার মুখে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ।