সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শারমিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে। পরে দুপুরে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার তেতৈয়া মোল্লাবাড়িতে পৌঁছলে সেখানে বেদনাবিধুর পরিবেশ তৈরি হয়।
শারমিনের পরিবারে তিনি ছিলেন ছোট ও সবচেয়ে আদরের সন্তান।
পুলিশ জানিয়েছে, শারমিনের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শহিদুজ্জামান জানান, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল, ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে। এছাড়াও উভয়ের কল ডিটেইল সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি টিম ক্রাইমসিন সংগ্রহ করেছে। আশাকরি শিগগিরই এ ঘটনার জট খুলবে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, রোববার রাতের বিভিন্ন সময়ে ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে; কিন্তু সে বরাবরই নিজের জড়িত থাকার কথা এড়িয়ে গেছে। নিবিড় তদন্ত চলছে। রিমান্ডে আসার পর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ খুনের মোটিভ মিলবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, রোববার (১৫ মার্চ) বিকালে ক্যাম্পাস সংলগ্ন সাভারের ইসলামনগর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শারমিন জাহান নামে এক ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত শারমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন। তিনি তার স্বামীর সঙ্গে ওই বাসায় থাকতেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।
স্বামীর ভাষ্যমতে, রোববার দুপুর ২টার পর তিনি বাসায় ফিরে এসে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে বাড়িওয়ালার সহায়তায় ভেতরে প্রবেশ করলে শারমিনকে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।