শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞরা এ আহ্বান জানান।
ইসলামী ব্যাংকিংয়ের অবদান তুলে ধরলেন আলেমরা
বিবৃতিতে বলা হয়, চার দশকেরও বেশি আগে বাংলাদেশে সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। ইসলামী অর্থনীতির আদর্শে প্রতিষ্ঠিত এ ব্যবস্থার সঙ্গে কোটি মানুষের আস্থা, সঞ্চয় ও জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে।
আলেমরা উল্লেখ করেন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষি অর্থায়ন, রেমিট্যান্স আহরণ এবং রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইসলামী ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতের অন্যতম পথিকৃৎ ও প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তাদের মতে, ইসলামী ব্যাংকিং শুধু একটি আর্থিক কাঠামো নয়; বরং নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি বিকল্প অর্থনৈতিক মডেল।
আমানতকারীদের স্বার্থে সুশাসন নিশ্চিতের দাবি
বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যাংকে জমা রাখা জনগণের অর্থ একটি পবিত্র আমানত। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনব্যাপী সঞ্চয়, সন্তানের শিক্ষা, পারিবারিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গভীরভাবে জড়িত।
আলেম সমাজের ভাষ্য, দেশের ব্যাংকিং খাত, বিশেষ করে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম জাতীয় প্রয়োজন।
তারা বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা অটুট রাখতে এবং আমানতকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে।
৭ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক সমাবেশ
দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ৭ জুন (রবিবার) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও সমন্বিত নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
এ কর্মসূচিতে দেশের আলেম-উলামা, আমানতকারী, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সচেতন নাগরিককে অংশগ্রহণ করে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শীর্ষ আলেম ও শিক্ষাবিদদের স্বাক্ষর
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শায়েখ মাওলানা কামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ জাফরী, অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, প্রফেসর ড. শামছুল আলম, ড. মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ এবং মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন কামিল ও ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ, জাতীয় খতীব পরিষদ, হুফ্ফাজ পরিষদ, জাতীয় ইমাম সোসাইটি, কওমী হাফেজ পরিষদসহ বিভিন্ন ইসলামী ভাবধারার সংগঠনের শতাধিক শীর্ষ নেতা বিবৃতির প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন।