জানা গেছে, ইরবিল-মোসুল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত সরদার গ্রুপের পরিচালিত ক্যাস্ট্রল তেলের গুদামে দফায় দফায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মোট চারটি ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ড্রোন সরাসরি গুদামে আঘাত হানে এবং একটি মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়। প্রথম হামলাটি হয় সকাল সাড়ে সাতটায়, যখন তেলের ডিপোটি লক্ষ্য করে প্রথম ড্রোনটি ধেয়ে আসে। এরপর ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলে আরও দুবার ড্রোন হামলা চালানো হয়।
ইরবিলের গভর্নর উমিদ খোশনব জানিয়েছেন, হামলার ভয়াবহতা ও উচ্চ দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির কারণে গুদামের ভেতরে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নিরাপত্তার খাতিরে একপর্যায়ে উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো কর্মী বা সাধারণ মানুষ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, লন্ডনে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তারা ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র সরবরাহ করছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ব্রিটেনের ওপর পরবর্তী হামলার বিষয়টি তাদের আত্মরক্ষার অংশ এবং এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে যুক্তরাজ্যের কার্যক্রমের ওপর।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে ইরাক বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে শিপিং ও তেল অবকাঠামোতে হামলার কারণে ইরাকের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ হামলার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে এখন চরম যুদ্ধ আতঙ্ক বিরাজ করছে।