শনিবার (২ মে) সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে এদিন সকালে ছিল অস্বাভাবিক নীরবতা। টার্মিনালে কোথাও যাত্রীদের লাইন বা কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। একটি নোটিশে জানানো হয়, স্পিরিট এয়ারলাইন্স তাদের বৈশ্বিক কার্যক্রম বন্ধ করেছে এবং সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ডিপারচার বোর্ডে বিভিন্ন গন্তব্যের ফ্লাইটের পাশে ‘বাতিল’ লেখা দেখা যায়।
এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বহু যাত্রী না জেনেই বিমানবন্দরে এসে বিপাকে পড়েন। কেউ পারিবারিক জরুরি কাজে, কেউ আবার বিশেষ দিবস উপলক্ষে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন—কিন্তু কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
প্রায় ৩৪ বছর ধরে পরিচালিত এই এয়ারলাইনটি দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে ছিল। দ্বিতীয়বার দেউলিয়া হওয়ার পর কোনো উদ্ধার চুক্তি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। গত ২৫ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম ঘটনা, যখন আর্থিক কারণে কোনো বড় মার্কিন এয়ারলাইন বন্ধ হয়ে গেল।
এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স, ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্স, ডেল্টা এয়ার লাইন্স এবং জেটব্লু এয়ারওয়েজ। তারা জরুরি ভাড়া চালু করেছে, যাতে যাত্রীরা দ্রুত বিকল্প ফ্লাইটে যেতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, সরকার অন্যান্য এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে যাত্রী ও কর্মীদের সহায়তায় কাজ করছে। স্পিরিট এয়ারলাইন্স যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেবে বলেও জানানো হয়েছে।
হঠাৎ এই বন্ধের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। অনেক যাত্রী এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এবং বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।