তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বিশ্ব ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন ঠেকাতে পারবে না। বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে যে রূপান্তর শুরু হয়েছে, তা এখন আর কোনো একক চুক্তি বা কূটনৈতিক উদ্যোগে থামানো সম্ভব নয়।
বর্তমানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক ব্যবস্থাতেও পড়ছে। অন্যদিকে চীন দীর্ঘদিন এসব সংঘাত থেকে দূরে থাকলেও এখন বুঝতে পারছে—এই পরিবর্তন থেকে আলাদা থাকা সম্ভব নয়। ফলে বেইজিং তাদের কৌশল নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।
একসময় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক “চাইমেরিকা” নামে পরিচিত ছিল, যেখানে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা বৈশ্বিক অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তুলেছিল। কিন্তু সেই কাঠামো এখন ভেঙে পড়েছে। ওয়াশিংটন ক্রমেই এই সম্পর্ককে ভারসাম্যহীন হিসেবে দেখছে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন কৌশল নিচ্ছে।
এই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার চেয়ে তাৎক্ষণিক লাভ ও জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর বেশি। এতে করে বিশ্ব ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে, কারণ বড় ও স্থায়ী চুক্তির বদলে এখন স্বল্পমেয়াদি সমঝোতাই গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আর এমন কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যেতে আগ্রহী নয়, যা ভবিষ্যতে তাদের কৌশলগত সুবিধা সীমিত করতে পারে। ফলে অন্য শক্তিগুলোও নিজেদের অবস্থান বদলাতে বাধ্য হচ্ছে। তারা সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নয়—এমন বিকল্প সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
রাশিয়া ইতোমধ্যে এই পথে অনেকটাই এগিয়েছে। চীনও এখন একই পথে হাঁটার কথা ভাবছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আসন্ন বৈঠকগুলোতে এই পরিবর্তনের দিকনির্দেশনা আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সব মিলিয়ে, মে মাসে বড় কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং স্পষ্ট হয়ে উঠবে—একটি বড় বৈশ্বিক সমঝোতা ছাড়াই বিশ্ব কীভাবে নতুন বাস্তবতায় নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে।