ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পুনরায় শুরু করার বিষয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ আলোচনা করা হবে।
পারস্য উপসাগরকে বিশ্ব মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা ও হুমকির কারণে বর্তমানে যান চলাচল প্রায় বন্ধ। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিস্ময়কর হলেও বৃহস্পতিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমেরিকার দায়িত্ব নয়। তিনি মিত্র দেশগুলোকে বলেছেন, “নিজেদের তেলের ব্যবস্থা নিজেরাই করো।”
চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরান যেভাবে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও মাইন দিয়ে জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে, তাতে কোনো দেশই এখন এই প্রণালি সচল করতে সাহস পাচ্ছে না। তবে কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সামরিক পরিকল্পনাকারীরা বৈঠকে বসবেন।
ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩৫টি দেশ একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে। সেখানে ইরানকে হরমুজ প্রণালি অবরোধের চেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং নিরাপদ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে অবদান রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
স্টারমার স্বীকার করেছেন, জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করা সহজ হবে না। এর জন্য সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক তৎপরতার সমন্বিত ফ্রন্ট এবং সামুদ্রিক শিল্পের সঙ্গে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক এই উদ্যোগকে ইউক্রেন যুদ্ধের পর গঠিত “কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং”-এর আদলে দেখা হচ্ছে। মূলত এটি ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি বার্তা যে ইউরোপ এখন নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সক্রিয় হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের ন্যাটো ত্যাগ হুমকির পর ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মহাদেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজন আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবারের এই বৈঠককে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পর কর্মকর্তাদের পর্যায়ে ওয়ার্কিং-লেভেল বৈঠকের মাধ্যমে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।