জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম বড় গরুর হাট হিসেবে পরিচিত ডুগডুগি গরুর হাট। হাটের পাশেই একটি আমবাগানের ভেতর আরিফুল ইসলাম নামের এক গরু ব্যবসায়ী তৈরি করেছেন গরুর আবাসিক হোটেল। হাট থেকে যারা গরু কেনেন তারা কেনা গরু এই হোটেলে রেখে অন্য হাটে যান গরু কিনতে। হোটেলে গরু রেখে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন গরুর ক্রেতারা। গরু দেখাশোনার জন্য হোটেলের কর্মীরা আছেন। কর্মীরা গরুকে গোসল করান, নিয়মিত তিন-চার বেলা খাবার দেন। প্রয়োজন হলে বাইরের খোলা মনোরম পরিবেশে গরু ঘুরিয়ে আনেন হোটেল মালিক।
সরেজমিনে গরুর আবাসিক হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা-যশোর প্রধান সড়ক থেকে একটু ভেতরে আমবাগানের মধ্যে গরুর হোটেলটি। সামনে বড় খোলা চত্বর। আশপাশে মাঠ। পাশেই ঘাস চাষ করা হয়েছে। এখানে থাকা গরুগুলো বাগানের ভেতরে খোলা চত্বরে ঘুরতে পারবে, টাটকা ঘাস খেতে পারবে বলে জানান হোটেল মালিক আরিফুল।

হোটেল মালিক আরিফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি গরু কেনাবেচার কাজ করে থাকেন। ঢাকা কিংবা দূরের কোনো জেলা থেকে গরুর ব্যাপারীরা এলে তিনি তাদেরকেও গরু কেনাবেচায় সহযোগিতা করে থাকেন। তিনি উপলব্ধি করেছেন, একটি গরু কেনার পর আরেকটি গরু কিনতে গিয়ে আগের কেনা গরুটি কোথায় রাখবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান ব্যাপারীরা। সেই সমস্যার সমাধানের জন্য তিনি তৈরি করেন গরুর হোটেল।
আরিফুল বলেন, গতবছর হোটেলটি তৈরি করা। আপাতত ৫০টি গরু রাখার ব্যবস্থা এখানে আছে। কেউ ছাগল রাখতে চাইলেও রাখতে পারবেন। গরু রাখার স্থানটি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখা হয়। সাথে আছে গরুর খাবার ব্যবস্থা। খামারে যেভাবে গরু রাখা হয় সেভাবে গরু রেখে খাওয়ানো হয়ে থাকে। শিগগিরই হোটেলটি সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
মানুষের আবাসিক হোটেলের মতো চেক আউট চেক ইন ব্যবস্থা কেমন জানতে চাইলে আরিফুল বলেন, যে সময়ে গরু হোটেলে ঢুকবে তার পরের দিন সেই সময়টি গরুর চেক আউট হিসেবে গণ্য হবে। এখানে খাওয়া দাওয়া বুফে সিস্টেম। প্রতিটি গরুর জন্য একটি বড় স্থায়ী খাবার পাত্র দেওয়া আছে। সেখানে সবসময়ই ঘাস বিচালি ইত্যাদি দেওয়া থাকবে। গরুর যখন মন বলবে খাবে। কোনো সমস্যা নেই।
হোটেল মালিক আরিফুল আরও বলেন, শুধু কোরবানি ঈদ উপলক্ষে নয়, সবসময় এই হোটেল চালু থাকে। পাশেই জেলার অন্যতম বড় পশুর হাট রয়েছে। ডুগডুগি পশু হাট। অনেক ব্যাপারী এবার এই হাট থেকে গরু কিনে আমার হোটেলে রেখেছেন। পরে অন্য হাট থেকে আরও গরু কিনে একসাথে ট্রাকে তুলে ঢাকায় নিয়ে গেছেন। হাটের কাছাকাছি হওয়ায় সকলেই আমাদের হোটেলের সুবিধা নিতে পারছেন।
এলাকাবাসী জানান, এখানকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থা ভালো। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো। কাছেই প্রধান সড়ক। এখান থেকে গরু দেশের যে কোনো প্রান্তে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
নতুন এই উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। প্রয়োজনে নতুন ঘর তৈরি করা যাবে বলে জানান হোটেল কর্তৃপক্ষ। জায়গা আছে। একটি গরুপ্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. শাহাবুদ্দিন বলেন, আরিফুল ইসলাম একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। এই উদ্যোগের ফলে উপকৃত হচ্ছেন গরু ব্যবসায়ীরা। গরু কেনার পর এখানে রাখা যাচ্ছে কিংবা হাটে তোলার আগে গরুকে এখানে বিশ্রামে রাখা যাচ্ছে। কোনো গরুর ব্যাপারী হাট থেকে ১০টি গরু কিনে ঢাকায় কিংবা অন্য কোনো জেলায় নিয়ে যাবেন। তিনি ধীরে সুস্থে একটি দুটি করে গরু কিনে এই হোটেলে রেখে বাকি গরু কেনায় মনোযোগ দিতে পারবেন। এই উদ্যোগ আরও প্রসার লাভ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।