শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে গাইবান্ধা এসআরবি-১৩ ক্যাম্প থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের হাশেম আলীর ছেলে হেলাল ইসলাম ও একই গ্রামে আইজুল হোসেনের ছেলে সোহেল মন্ডল।
এসআরবি-১৩ ক্যাম্পের তথ্য অনুযায়ী, গত বিশ জুলাই নাটোর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আমিনুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানানো হয় তার ছেলে তামিম আল মাহি তার বন্ধুদের নিয়ে মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে টাকার দাবি করা হয়।
সূত্র আরো জানায়, প্রতারকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এ আই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমিনুল ইসলামের ছেলের কণ্ঠস্বরে মত করে কথা বলে তার বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে এবং দাবিকৃত টাকা দিতে রাজি হন আমিনুল ইসলাম। তিনি দুই দফায় নগদের মাধ্যমে মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।
ওই টাকা দেওয়ার পর ছেলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে আমিনুল ইসলাম জানতে পারেন, তার ছেলে পুলিশের হাতে আটক হয়নি। তখন তিনি প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নাটোর সদর থানায় তিনি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন ।
মামলার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান শুরু করা হয় এবং শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে এসআরবি-১৩-এর সিপিসি-৩-এর একটি দল বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় হেলাল ইসলাম ও সোহেল মন্ডলকে তাঁদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহারের অভিযোগে নয়টি মোবাইল ফোন, একটি পাসপোর্ট ও নগদ ১৪ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে
এসআরবি-১৩ ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।