সোমবার (২৫ মে) সকালে হাটে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার পশুর ভালো দাম পাওয়ার আশা নিয়ে হাটে এসেছেন দেশের বিভিন্ন জেলার বিক্রেতারা। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থেকে সাতটি গরু নিয়ে আসা খামারি মো. আব্দুর রোশন ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন মণ ওজনের একটি গরু ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
তিনি জানান, বিগত কয়েক মাস ধরে নিজ খামারে নিবিড় যত্নে তিনি গরুগুলো লালন-পালন করেছেন। গোখাদ্যের দাম অনেক বাড়লেও হাটে ভালো দামের আশায় আছেন তিনি। তবে ক্রেতারা গরু দেখছেন এবং দরদাম করছেন ঠিকই কিন্তু হাটে এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বেচাকেনা শুরু হয়নি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখনো ব্যবসায়ীরা হাটে নতুন নতুন পশু নিয়ে আসছেন। সকাল থেকে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়লেও তাদের অধিকাংশই আপাতত বাজার যাচাই করতে ব্যস্ত। দাম পছন্দ হলেই ছেড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা।
প্রায় ৫ মণ ওজনের সাদা-কালো রঙের একটি গরু কিনেছেন মোহাম্মদ হানিফ। তিনি বলেন, সকাল থেকে হাটে ঘুরে দেখেছি, দাম কেউ ছাড়ছে না। অনেক ঘুরে ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা দিয়ে একটা গরু কিনেছি।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গরু কেনার জন্য হাটে এসেছেন রুহুল আমিন ও তার দুই সন্তান। ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে গরু কিনবেন তারা। সকাল ১০টায় হাটে এলেও এখনো দামে মেলেনি বলে জানান রুহুল আমিন।
তিনি বলেন, আমরা তিন শেয়ারে কোরবানি দেব। আজকে সন্তান ও শরিকদের নিয়ে বাজারে এসেছি। আমরা দেখছি, দামাদামি করছি। তিন মণ বা তার কাছাকাছি ওজনের গরু খুঁজছি। ওজনে মিললে রং পছন্দ হয় না, আবার রং মিললে ওজন বেশি হয়ে যায়। বাজেটের সঙ্গে মিলছে না।
ধানমন্ডির বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন দুটি গরু কিনেছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা দিয়ে। সেগুলোকে মিনি ট্রাকে করে বাসায় নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পছন্দ হয়েছে, তাই দুটি কিনেছি। বেশি ঘোরাঘুরি করিনি।
গাবতলীতে কুষ্টিয়ার গরুই বেশি
গাবতলীর গবাদিপশুর হাটে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুর ব্যাপক সরবরাহ দেখা গেছে। হাটে আসা অধিকাংশ গরুই এসেছে কুষ্টিয়া অঞ্চল থেকে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কুষ্টিয়ার খামার ও কৃষিভিত্তিক পালন পদ্ধতির কারণে এ এলাকার গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে। ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও দাম ও মান নিয়ে চলছে দরকষাকষি। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় হাটে প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
কুষ্টিয়া থেকে আসা গরু ব্যাপারী রেজাউল করিম বলেন, কুষ্টিয়াতে অনেক গরু পালন করা হয়। খামারের তুলনায় গৃহস্থালিতে অনেক বেশি। ঢাকাকে টার্গেট করেই অনেকে গরু পালন করেন।
আসছে শত শত ট্রাক ভর্তি গরু
ঈদের আর মাত্র দুদিন বাকি থাকলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গাবতলীর পশুর হাটে প্রতিদিনই নতুন করে শত শত গরু আসছে। এখনো শত শত ট্রাক ভর্তি গরু হাটে এসে পৌঁছাচ্ছে, ফলে হাটের আশপাশের সড়কে ট্রাকের সারি দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি বড় ট্রাকে গড়ে ১০ থেকে ২০টি করে গরু আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকেও ছোট মিনি ট্রাকে করে নিয়মিতভাবে গরু আসছে। এতে হাটে গরুর সরবরাহ যেমন বাড়ছে, তেমনি ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতেও জমজমাট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কুষ্টিয়া থেকে ৪০টি গরু নিয়ে সকালে এসেছেন বেপারী জামশেদ আলম। তিনি বলেন, আজকে সকালে আমরা চল্লিশটি গরু নিয়ে এসেছি। আশা করি বিক্রি করতে পারব। এখনো ট্রাক থেকে নামাতে পারছি না। জায়গা খুঁজছি, জায়গা পেলে ট্রাক থেকে গরু নামিয়ে ফেলবো।