এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপসচিব (সিটি-১)। এছাড়া কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর প্রতিনিধি, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এবং রাজউক-এর একজন পরিচালক সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন।
কমিটির মূল লক্ষ্য—ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং একই সঙ্গে হকারদের জন্য বিকল্প জায়গা নিশ্চিত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মূল সড়ক ও ফুটপাত থেকে সরিয়ে সুবিধাজনক স্থানে তাদের পুনর্বাসনের নীতিমালা দ্রুত প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।
কমিটির সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।
উচ্ছেদ অভিযান, কিন্তু টেকেনি ফল
চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায়। গুলিস্তান, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাবসহ ব্যস্ত এলাকাগুলোর ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়।
এই অভিযানে প্রায় ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানা আদায়, ৪৯ জনকে কারাদণ্ড এবং ১৭০টি মামলা করা হয়। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই আবার ফুটপাত দখলে চলে যায় হকারদের হাতে।
‘পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়’—হকারদের দাবি
হকারদের দীর্ঘদিনের দাবি—বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ নয়। বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন-এর ব্যানারে তারা সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।
তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
* পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ
* জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন
* চাঁদাবাজি বন্ধ করে বৈধ রাজস্ব ব্যবস্থা
* প্রকৃত হকারদের তালিকা তৈরি
* বাজেটে বরাদ্দ ও স্থায়ী মার্কেট ব্যবস্থা
নৈশ মার্কেট—সমাধানের নতুন পথ?
হকারদের পুনর্বাসনে বিকল্প ভাবনা হিসেবে রাজধানীতে ৮টি নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, অফিস সময়ের পর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এসব মার্কেটে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই সমাধানের জন্য শুধু উচ্ছেদ নয়—পরিকল্পিত পুনর্বাসনই হতে পারে একমাত্র কার্যকর পথ। আর সেই পথেই হাঁটতে যাচ্ছে সরকার।