নিহত আমিন খান বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের লোকমান খানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে বোয়ালমারী বাজারে ‘আমিন খান ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রেস ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আমিনের আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে প্রায় ১০–১২ দিন আগে তাঁকে আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে পরিবারের সদস্যদের তাঁর মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে স্বজনেরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। তাঁদের দাবি, আমিনের দুই হাত ও পায়ে দড়ি দিয়ে বাঁধার দাগ ছিল। তাঁর শরীরের বর্ণও হলুদ হয়ে গিয়েছিল বলে স্বজনেরা জানান।
নিহতের ভাই রবিউল খান অভিযোগ করেন, আমিনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই নিরাময়কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অসংলগ্ন আচরণ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মরদেহে দড়ির দাগ থাকার পরও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করে সাধারণ মৃত্যুর রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।
রবিউল খানের আরও অভিযোগ, নিরাময়কেন্দ্রের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর কথা বলে স্বজনদের না জানিয়ে থানায় চলে যান। পরে স্বজনেরা কেন্দ্রে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে সেখানে আমিনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রাখার দৃশ্য দেখতে পান বলে দাবি করেন। পুরো ফুটেজ দেখতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তা না দেখিয়ে সিসিটিভি কক্ষ ত্যাগ করে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, রাতে ঘুমের সময় আমিন অন্য রোগীদের বিভিন্নভাবে বিরক্ত করছিলেন। সকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে নিরাময়কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনেরা বলছেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; নিরাময়কেন্দ্রে শারীরিক নির্যাতনের কারণেই আমিনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।