বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ থেকে পিবিআই এর হাতে গ্রেফতারের পর বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলেন সাইফুল ইসলাম৷ এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের পশ্চিম জের কাছাড় গ্রামের নির্মানাধীন নতুন বাড়ির একটি কক্ষে বালুর নিচ থেকে গৃহবধূ রিনা আক্তার এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ফেনীস্থ পিবিআই এর পুলিশ সুপার উক্য সিং (১৪ মে) বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ থেকে শর্শদী ইউনিয়নের রিনা আক্তার হত্যা মামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তি সাইফুল ইসলামকে তার মামার বাসা থেকে আটক করা হয়।
আটকের পর সাইফুল ইসলামের ভাষ্য উল্লেখ করে পিবিআই পুলিশ সুপার উক্য সিং জানান, একটি ব্যাংক থেকে নেয়া ঋনের কিস্তি পরিশোধ না করতে পারায় গত কয়েকদিন যাবৎ মানসিকভাবে হয়রানির মধ্যে ছিলেন সাইফুল। বাড়ির পাশের নতুন নির্মাণাধীন বাড়িতে রাজমিস্ত্রীর সহকারীর কাজ করছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরের পর ওই গৃহবধূ পুরাতন বাড়ি থেকে নতুন বাড়ি নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে আসেন। এসময় গৃহবধূর কানে স্বর্ণের দুল দেখে তা ছিনতাইয়ের ফন্দি করে সে। এক পর্যায়ে ঘরের এক কোনে কাজ দেখানোর কথা বলে ওই গৃহবধূকে ডেকে নিয়ে যায় সাইফুল। সুযোগ বুঝে পেছনের দিক থেকে গলা চেপে ধরে স্বর্ণের দুল খোলার সময় গৃহবধূর মৃত্যু হয়। পরে লাশ গুম করতে সাইফুল ওই কক্ষের বালুর নিচে লাশ লুকিয়ে রেখে স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে পালিয়ে যায়।
পিবিআই জানায়, আটককৃত সাইফুল ছিনতাইকৃত স্বর্ণের দুল স্থানীয় মোহাম্মদ আলী বাজারে ১৫ হাজার ৫শ টাকায় বিক্রি করে চট্টগ্রামে চলে যায়। সেখান থেকে পিবিআই তাকে গ্রেফতার করে ফেনীতে নিয়ে আসে। শুক্রবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের চোছনা গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম জের কাছাড় এলাকায় প্রবাসী মানিকের নির্মাণাধীন বাড়ির একটি কক্ষে বালুর নিচ থেকে স্ত্রী রিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার রিনার বড় ছেলে মোহরম হোসেন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসছিল।