জানা যায়, দেশের সবচেয়ে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল পরিবারের সদস্যরাই বিভিন্ন পৌর এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করে থাকে।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বড় অংশই জেলান্তরিত হয়ে ছিন্নমূল মানুষ হিসেবে পৃথম কমিউনিটিতে বসবাস করে থাকেন। জীবন আচারে ভিন্নতা থাকায় ঘর ভাড়া না পেয়ে বাধ্য হয়েই তারা রাস্তার পাশে অথবা কোন বস্তিতে গড়ে তুলেন আবাসন। মানবেতর জীবন-যাপনের মধ্য দিয়ে এদের পরিবারে বেড়ে ওঠা ছেলে-মেয়েরাও দেশের স্বাভাবিক ধারা বঞ্চিত হয়ে পিছিয়ে পড়ে।
দাগনভূঞা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর দাগনভূঞা পৌরসভার আজিজ ফাজিলপুর গ্রামের নার্সারী রোডে ‘পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয়। ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধিন প্রকল্পটির কাজ পায় কনসোনেল ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড বিল্ডার্স নামের চট্টগ্রামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী ৭ এপ্রিল কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি ৬০ ভাগের উপরে যেতে পারেনি। এখনো বাকী রয়েছে ইউনিট পার্টিশনের ব্লক ইটের গাঁথুনী, পলেস্তারা, ফিনিশিংয়ের কাজ ও রংয়ের কাজ। এরপর বসানো হবে প্রতিটি ইউনিটে দরজা, জানালাসহ অন্যান্য সামগ্রী। তবে আগামী বছরের প্রথমার্ধেই ভবনটি নির্মাণকাজ শেষে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করার আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইতোমধ্যে ৭তলা বিশিষ্ট্য ভবনটির ৬টি ছাদের ঢালাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২য় ও ৩য় তলায় ভবনের পার্শ্বদালানের ইটের গাথুনিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। ৭ম তলায় ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে।
দাগনভূঞা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা জানায়, এখানে সরকার আমাদের জন্য অনেক টাকা ব্যয় করে ঘর নির্মাণ করছে শুনে অনেক খুশি হয়েছি। আমরা শহরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করি। আমরা গরিব মানুষ। এজন্য মানুষ আমাদের কাছে ঘর ভাড়া দিতে চায় না। কেউ আমাদের সাথে আত্মীয়তা করতে চায় না। আমাদের সন্তানদের সাথে বিয়ে সাদীও দিতে চায় না। এতা সুন্দর দালানে আমাদেরকে থাকতে দেয়া হবে কিনা জানিনা। তবে এ বিল্ডিংয়ে থাকতে পারলে আমাদের সন্তানদের মানুষ করতে পারবো। সমাজের মানুষ আমাদেরকেও সম্মান করবে। আমরা আর রাস্তার পাশে অথবা নিম্নমানের কলনীতে থাকতে হবে না। এমন সুন্দর বিল্ডিং ও পরিবেশে থাকলে আমাদের ছেলে-মেয়েরাও স্কুলে যাবে। সবারমত পড়াশোনা করবে। তারাও মানুষ হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের দাগনভূঞা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাছুমি বিল্লাহ বলেন, ৩৬ শতক ভূমি নিয়ে এ প্রকল্পটির কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের ৭তলা বিশিষ্ট্য ভবনে কমিউনিটি হল, নামাজের স্থান, লিফটসহ নানা আধুনিক সুবিধা রাখা হয়েছে। এখানে মোট ২৪টি ইউনিট তৈরী হবে। প্রায় ৭শ স্কয়ার ফিটের দৈর্ঘ্যের প্রতিটি ইউনিটে ২টি বেড, ২টি বারান্দা, ড্রয়িং, ডাইনিং ও কিচেন রুম সুবিধা থাকবে। ভবনটির প্রতিটি ছাদের দৈর্ঘ্য বয়েডসহ ২৭৪৩ স্কয়ার ফিট ও বয়েড ছাড়া ২৩৪০ ফুট। বর্তমানে ভবনটির প্রায় ৬০ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। আগামী ৭/৮ মাসের মধ্যেই আমরা ভবনটি হস্তান্তর করার পরিকল্পনা নিয়েছি। ভবনটি উপজেলার সর্বাধুনিক একটি ভবন হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের এ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য: সারা দেশের ৫৯টি জেলায় ৬৬ পৌরসভায় ১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ তলা বিশিষ্ট্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত ভবন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এ ভবন নির্মাণের পর সংশ্লিষ্টদের বরাদ্দ দেয়ার মাধ্যমে দেশের হরিজন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ দলিত সম্প্রদায়ের বাস্তস্থানের সংকট নিরসন করা যাবে। এরই সাথে দলিত সম্প্রদায়কে দেশের আর্থ ও সামাজিক মূল ধারায় একিভূত করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিরা।