বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Channel18

সারা দেশ

ঈদযাত্রায় সড়কে প্রায় ২৯ হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ বাস

ঈদযাত্রায় সড়কে প্রায় ২৯ হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ বাস

ঈদ সামনে রেখে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রায় এবারও সড়কে নামছে বিপুলসংখ্যক পুরনো বাস। প্রায় ২৯ হাজার বাস ও মিনিবাস ইতোমধ্যে তাদের নির্ধারিত আয়ুষ্কাল পার করেছে। তবু এসব যানবাহনের বড় একটি অংশ ঈদযাত্রার সময় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হওয়া এসব বাস-মিনিবাস সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি মাঝপথে বিকল হয়ে যানজট ও বিশৃঙ্খলার কারণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণভাবে একটি বাণিজ্যিক বাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয় ১০ থেকে ১৫ বছর। তবে বাংলাদেশে একটি বাসের অর্থনৈতিক আয়ু নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ বছর, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও এসব যানবাহন কার্যকরভাবে সড়ক থেকে সরাতে না পারাকে তারা সরকারের বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, শুধু ঈদ বা উৎসবের সময় নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে সারা বছরই কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)–এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলায় ২০ বছরের বেশি পুরনো বাস ও মিনিবাস রয়েছে ১০ হাজার ৫৫৬টি। এর বাইরে সারা দেশে আরও ১৮ হাজার ২০৫টি বাস ও মিনিবাস রয়েছে, যেগুলোর বয়স ২০ বছর বা তারও বেশি। একই সঙ্গে দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা ৪৬ হাজারের বেশি।

হাইওয়ে পুলিশ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়কে মূলত দুই ধরনের সংকট তৈরি করে। প্রথমত, ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে হঠাৎ বিকল হয়ে গেলে চালক ও যাত্রী বিপাকে পড়েন এবং গাড়িটি আটকে থাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয়ত, এসব গাড়ির ব্রেক, টায়ার, স্টিয়ারিং বা গিয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দুর্বল হয়ে পড়ায় চালক সহজেই নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়–এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রতিদিন যে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে তার প্রায় ২০ শতাংশের পেছনে আনফিট মোটরযান দায়ী। এসব দুর্ঘটনায় শুধু প্রাণহানি নয়, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়।

তবে পুরনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা মূলত ঈদকেন্দ্রিক বলেই মন্তব্য করেছেন বুয়েট দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট–এর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান। তিনি বলেন, প্রতি বছর ঈদের সময় মানুষের স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ দেখা যায়। কিন্তু মৌসুমভিত্তিক এসব উদ্যোগ বাস্তবে স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে সারা বছর কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় বাড়তি চাহিদার কারণে পরিবহন সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সংকট মোকাবিলার বিকল্প উপায় রয়েছে। ঈদের ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের পরিবহন ব্যবস্থার বাসগুলো বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব বাস সাধারণত ভালো অবস্থায় থাকে এবং চালকেরাও দক্ষ। এতে পুরনো ও ফিটনেসবিহীন বাসে মানুষের যাতায়াত অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর ব্যবহৃত পরিবহনও এ সময় কাজে লাগানো যেতে পারে।

একই মত দিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন–এর নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, প্রতি বছরই মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়কে চলাচল করে এবং মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়। কিন্তু ঈদের আগে কয়েক দিনের অভিযানে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য অন্তত তিন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে সরকারকে কাজ শুরু করতে হবে। তবেই ভবিষ্যতে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পরিবহন পুলে প্রায় ১ হাজার ২০০ যানবাহন রয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বাস ও গাড়িও রয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এগুলো যদি ঈদের সময় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা যেত, তাহলে পরিবহন সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো। কিন্তু তা না হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাতায়াত করছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদকে সামনে রেখে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন গ্যারেজে পুরনো ও ফিটনেসবিহীন ‘লক্কড়-ঝক্কড়’ বাস মেরামত ও রং করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যান্ত্রিক ত্রুটি পুরোপুরি ঠিক না করেই কেবল বাহ্যিক সাজসজ্জা বাড়িয়ে এসব বাস সড়কে নামানো হচ্ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং বাস মালিকদের সচেতনতা জরুরি।

এদিকে ঈদের সময় ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়-ঝক্কড় বাসের চলাচল বন্ধে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ার। গতকাল রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল–এ বাস মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, লক্কড়-ঝক্কড় বাস রাস্তায় নামানো হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ফিটনেসবিহীন বাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ সময় দূরপাল্লার বাসে একাধিক চালক রাখার এবং বাসের ছাদে যাত্রী পরিবহন না করার জন্যও আহ্বান জানান তিনি।

আরও

মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজ না থাকায় মিলছে না জ্বালানি তেল

সারা দেশ

মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজ না থাকায় মিলছে না জ্বালানি তেল

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা প্রশাসন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও কাগজপত্র ছাড়া পেট্রোল পাম্প থেকে তেল না দে...

২০২৬-০৪-০১ ১৮:২৭

কাঁচপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন, যানজট নিরসনে কঠোর হুঁশিয়ারি এমপি মান্নানের

সারা দেশ

কাঁচপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন, যানজট নিরসনে কঠোর হুঁশিয়ারি এমপি মান্নানের

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কাঁচপুর এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) কাঁচপুর সেতুর পূর্ব ঢালে...

২০২৬-০৪-০১ ১৭:১৯

আমি দুর্নীতি করি না কাউকে করতেও দেবনা: আলেক

সারা দেশ

আমি দুর্নীতি করি না কাউকে করতেও দেবনা: আলেক

নড়াইল জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান আলেক আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর দা...

২০২৬-০৪-০১ ১৭:১৪

নড়াইলে সাংবাদিকদের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

সারা দেশ

নড়াইলে সাংবাদিকদের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

নড়াইলের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে এবং জেলাকে অপরাধমুক্ত করার প্রত্যয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভ...

২০২৬-০৪-০১ ১৭:১২