সাক্ষাৎকালে জুলাই আন্দোলনে আহত হাবিবুর রহমানের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, 'তুমি অনেক কষ্ট করে বেঁচে আছো। দলের জন্য তোমার যে অবদান, তা দল কখনও ভুলবে না। তুমি যেভাবে দলের জন্য সময়, শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছ, ইনশাআল্লাহ দল তার যথাযথ মূল্যায়ন করবে।'
আলোচনার একপর্যায়ে আন্দোলনের সময়কার শারীরিক যন্ত্রণা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তুমি যে বেদনা নিয়ে আজও বেঁচে আছো, সেই বেদনা আমিও এখনও বহন করে চলেছি। আল্লাহ আমাদের সবার ত্যাগ কবুল করুন।’
হাবিবুর রহমান জুলাই আন্দোলনের অগ্রসারির একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিত। গত ২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে তিনি দলের প্রতিটি আন্দোলনের দিনগুলোতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দেন। মিছিলে ব্যানার বানানো থেকে শুরু করে স্লোগান দেওয়াই প্রধান দায়িত্ব। জুলাই আন্দোলনে তিনি একাই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তিনি ১৮ জুলাই রাজধানীর শনির আখড়ায় বৃহৎ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ১৯ জুলাই সেগুনবাগিচা, সচিবালয়, শান্তিনগরসহ আশপাশের এলাকায় আন্দোলন গড়ে তোলেন। ওইদিন তিনি পার্টি অফিসের তালা ভাঙেন।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০ জুলাই শনির আখড়া এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে একটি স্থানীয় ফার্মেসিতে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি বলে জানান তিনি।
তবে সময়মতো উন্নত চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধান না পাওয়ায় সেই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষত এখনও তাকে শারীরিকভাবে ভোগাচ্ছে। দীর্ঘদিন পরও তিনি বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে হাবিবুর রহমান বলেন, 'এই অভিশপ্ত জুলাই আমাদের জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে—যা কোনো কিছুর বিনিময়ে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ যদি সেদিন আমাকে বাঁচিয়ে না রাখতেন, তাহলে আজ আমার বেঁচে থাকার কথা ছিল না। কীভাবে যে বেঁচে আছি, সেই কষ্ট আমার পরিবার ছাড়া আর কেউ জানে না।'
তিনি আরও বলেন, ‘দলের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি, রাস্তায় থেকেছি, রক্ত দিয়েছি। আমার বিশ্বাস, দল আমাদের সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আজ প্রধানমন্ত্রী আমাকে দোয়া করেছেন, সাহস দিয়েছেন এবং বলেছেন—আমার অবদানের মূল্যায়ন অবশ্যই হবে। তাঁর এই কথাগুলো আমাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে।’
এই সময় উপস্হিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারি।
বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা তৃণমূল কর্মীদের রাজপথে নামতে অনুপ্রাণিত করেন। তিনি এর আগে ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য, সহ-অর্থ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-স্কুলবিষয়ক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২৪ সালে ফেনীতে বন্যার সময় অসহায় মানুষের মাঝে বিভিন্ন সময় ত্রাণসামগ্রী এবং অনেককে অর্থ সহযোগিতাসহ খেলাধুলা, বিভিন্ন সামাজিক কাজেও সহযোগিতা করেন। বর্তমানে সোনাগাজী আলহাজ্ব রহিম উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।