এবারের জন্মবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল”। জাতীয়ভাবে দিনটি উদ্যাপনে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছেন। ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত এই বিশেষ বর্ষ পালনের ঘোষণা আসে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আয়োজিত নজরুল জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরাধীন ও নিপীড়িত জাতির অন্ধকার সময়ে নজরুল ছিলেন আলোর দিশারি। তাঁর কলম ছিল শোষণ, সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নিরন্তর যুদ্ধের ঘোষণা।
তিনি আরও বলেন, নজরুল শুধু কবি ছিলেন না—তিনি ছিলেন স্বাধীনতার প্রথম উচ্চকণ্ঠ দাবিদারদের একজন। মানুষ, মানবতা, নারীমুক্তি ও সাম্যের পক্ষে তাঁর লেখনী আজও সমান প্রাসঙ্গিক। বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির ভিত নির্মাণে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান—সব আন্দোলন-সংগ্রামেই নজরুলের কবিতা ও গান অনুপ্রেরণার শক্তি হয়ে উঠেছিল। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা।
জাতীয় কবির জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা আয়োজন করেছে। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল।
এছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশাল, কুমিল্লার দৌলতপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ও বেসরকারি চ্যানেলগুলোও সম্প্রচার করবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
যে কবি লিখেছিলেন—
“বল বীর—
বল উন্নত মম শির!”
সেই নজরুল আজও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস জোগান। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু বিদ্রোহের সেই অগ্নিবীণা এখনো সমান দীপ্তিতে বাজে বাঙালির হৃদয়ে।