এই তারকা খ্যাতি অর্জনের পথটাও একদমই সহজ ছিল না কপিল শর্মার। মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে আয় শুরু করা এ অভিনেতাকে একসময় চড় খেয়ে সেট থেকেও বের করে দেয়া হয়েছে। অথচ আজ তিনি প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক।
সংবাদমাধ্যম ডিএনএ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অপ্রত্যাশিত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই কমেডিয়ান অভিনেতাকে। ২০০১ সালে ‘গদর: এক প্রেম কথা’ সিনেমার শুটিং হচ্ছিল অমৃতসরে।সেখানে অ্যাকশন পরিচালক টিনু বর্মার কথা শুনতে হয় তাকে। এমনকি চড় দিয়ে সেট থেকে বের করেও দেয়া হয়েছিল কপিল শর্মাকে।
এ ঘটনাটি পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন কপিল শর্মা। এ ব্যাপারে তিনি বলেছেন, সেই তিক্ত ঘটনাই তার অভিনয়ের দক্ষতা প্রমাণের জন্য বেশ দৃঢ় করে তোলে তাকে।
কপিল শর্মা মাত্র ১৬ বছর বয়সে তার বাবাকে হারান। এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি বিএসএফ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত পরিবারকে সহায়তা করার জন্য কাজে নামতে হয় তাকে। তার প্রথম কাজ ছিল অমৃতসরের একটি টেলিফোন বুথে, এতে তিনি ৫০০ টাকা বেতন পেয়েছিলেন।
এছাড়াও তিনি জানান, স্কুল শেষ করার পর কলেজে পড়ার সময় থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। এরপর ২০০৭ সালে দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ’-এ অংশ নেয়ার জন্য মুম্বাই চলে যান। সেখানে গিয়েই ক্যারিয়ারের বাঁক বদলায় তার।
‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে ১০ লাখ টাকা পান, যা তার জীবনের প্রথম বড় অর্জন ও সাফল্য। তারপর জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর ‘কমেডি সার্কাস’ শোয়ে অংশ নিয়ে জয়ী হয়ে একজন দক্ষ কমেডিয়ান হিসেব প্রতিষ্ঠিত করেন নিজেকে।
কপিল শর্মা তাৎক্ষণিক সংলাপ বলায় বেশ দুর্দান্ত। সাধারণ কোনো বিষয়কেও হাস্যরসভাবে উপস্থাপন করার এই ক্ষমতা তাকে অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় করে তোলে দর্শকমহলে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে শুরু করেন নিজস্ব শো ‘কমেডি নাইটস উইথ কপিল’। পরিবারকেন্দ্রিক হাস্যরস, সামাজিক বিভিন্ন বিষয় ব্যঙ্গ এবং অতিথিদের সঙ্গে নানা আলাপচারিতা অনুষ্ঠানটি জনপ্রিয় করে তোলে।
২০১৬ সালে শুরু করেন ‘দ্য কপিল শর্মা শো’, যা এখনো টিভি পর্দার অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম ও জনপ্রিয়। বলিউড তারকাদের সঙ্গে গল্প-আড্ডা এবং তাৎক্ষণিক হাস্যরসাত্মকই মূল আকর্ষণ শোটির। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনার পাশাপাশি সহপ্রযোজনাও করেন তিনি।
কপিল শর্মা কয়েকটি সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ‘কিস কিসকো পেয়ার করু’ সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে ধনী কমেডিয়ান তারকাদের মধ্যে অন্যতম তিনি, যার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বলে জানা যায়।