মঙ্গলবার (২৬ মে) সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুরের কালশী এলাকার গরু-ছাগলের হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে দেশি, ব্ল্যাক বেঙ্গল, যমুনাপারি, বিটাল, সিরোহি ও ক্রস জাতের অসংখ্য খাসি উঠেছে। বিক্রেতারা বলছেন, এবার খাবার, পরিবহন ও লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় দাম বেশি রাখতে হচ্ছে।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাটে ছোট আকারের দেশি ও ব্ল্যাক বেঙ্গল খাসি ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের খাসির দাম ২০ থেকে ২৮ হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে বড় আকারের যমুনাপারি, বিটাল ও ক্রস জাতের খাসির দাম হাঁকা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। কিছু বড় ও স্বাস্থ্যবান খাসির দাম ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাইছেন বিক্রেতারা।
হাটে আসা অনেক ক্রেতাকে দরদাম করে শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে। মিরপুর থেকে আসা এক ক্রেতা নুরুল ইসলাম বলেন, ভাবছিলাম ১৮–২০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো একটা খাসি পাব। কিন্তু এখানে সেই দামে অনেক ছোট খাসি পাওয়া যাচ্ছে। দাম খুব বেশি। সেজন্য অন্য জায়গায় যাচ্ছি।
হাবিব উল্লাহ নামের আরেক ক্রেতা বলেন, আশপাশের অন্য হাটগুলো ঘুরে দেখেছি সবগুলোতেই খাসির দাম বেশি। গরুর চেয়ে এবার খাসির চাহিদা বেশি মনে হচ্ছে। এই সুযোগে বিক্রেতারাও কোনোভাবেই দাম ছাড়ছে না। ১০-১৫ হাজার টাকা বাজেটে খাসি পেতে ঝামেলায় পড়ে যেতে হচ্ছে।
এদিকে বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি পশু পালন ব্যয়ও বেড়েছে। কুষ্টিয়া থেকে খাসি নিয়ে আসা এক বিক্রেতা রবিউল বলেন, এক বছর ধরে খাসি পালন করতে খাবার, ওষুধ ও পরিবহনে অনেক খরচ হয়েছে। তাই কম দামে বিক্রি করলে লাভ থাকবে না। সারা বছর আমরা লাভের আশাতেই ছাগল পালন করি। এখন যদি কিছুটা লাভ করতে না পারি তাহলে আবার আগামী বছরের জন্য ছাগল কিনতে গিয়ে লসে পড়তে হবে।
এদিকে সকাল থেকে হাটে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বিকেলের পর ভিড় বাড়তে শুরু করবে বলে আশা করছেন ইজারাদাররা। তাদের প্রত্যাশা, ঈদের আগের দিন হওয়ায় আগামীকাল হাট আরও জমজমাট হবে এবং বিক্রিও বাড়বে।