ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুল বলেন, ‘রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমার কার্যালয়ে আসেন। তারা আমাকে কক্ষ থেকে বের করে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।’
ইউপি সচিব সুজন চন্দ্র দাস বলেন, ‘ওই ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ ডিলিটের জন্য ছাত্রদলের নেতারা আমার কাছে আসেন। আমি ফুটেজ ডিলিট করতে পারি না জানালে সিসিটিভির ডিভাইস (মনিটর) নিয়ে যান তারা। ডিভাইস নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আমি ইউএনওকে অবিহিত করেছি। এখনও ছাত্রদলের নেতারা ডিভাইসটি ফিরিয়ে দিয়ে যায়নি। শুনেছি তারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।’
এদিকে চেয়ারম্যান বুলবুলকে হেনস্তা করায় ভাটরা বাজারে রবিবার রাত ও সোমবার দুপুরে প্রতিবাদ মিছিল করা হয়। এতে ভাটরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ শেখ উপস্থিত থাকায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা ছাত্রদল।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু বলেন, ‘তিনদিন আগে ভাটরায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইফতার পার্টি করেছেন। এজন্য আমরা ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়েছি। আমাদের সঙ্গে এলাকার লোকজন ছিল। তারা সেখানে তালা দিয়েছে। সিসি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ কে নিয়েছে তার খবর নেবো আমরা।’
তবে চেয়ারম্যান শামছুল আলম বাবুলের দাবি তিনি কোনও দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, এমনকি ইফতার মাহফিলের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে ফোন এসেছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানা নেই। খোঁজ নেওয়া হবে।’
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি থানা পুলিশকে জানিয়েছি। এরপর আর কোনও খোঁজ নেওয়া হয়নি। সচিবের কক্ষ থেকে যেহেতু ডিভাইস নিয়ে গিয়েছে, সে ঘটনায় লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেছি। চেয়ারম্যানের কক্ষের তালা দেওয়া নিয়ে তিনি নিজেই আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি। তবে থানায় এখনও কেউ কোনও অভিযোগ দেয়নি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’