ঘটনাস্থলেই মৃত্যু
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ব্যস্ত সড়কের ওপর দুর্বৃত্তরা রকির ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি হাতুড়ি ও দুটি দা উদ্ধার করা হয়েছে, যা হামলার নৃশংসতা নির্দেশ করে।
পরিকল্পিত ডাকা তারপর হামলা?
নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। রকির ভাই জানান, হারুন নামে এক ব্যক্তি ফোন করে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক বিরোধ চলছিল হারুন, নিরব ও বাপ্পি নামের কয়েকজনের সঙ্গে।
রকির মা জানান, ঘটনার দিন সকালেও তিনি ছেলের কাছ থেকে হুমকির কথা শুনেছিলেন—দোকান দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল তাকে।
দ্বৈত পরিচয়ের রকি
একদিকে ইট-বালুর ব্যবসায়ী ও গ্যারেজ মিস্ত্রি অন্যদিকে পুলিশের দাবি, রকির বিরুদ্ধে রয়েছে অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই ও ছুরিকাঘাতসহ একাধিক মামলা। সম্প্রতি ঈদের আগে জামিনে মুক্তিও পেয়েছিলেন তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে এই হত্যাকাণ্ড কি শুধুই ব্যবসায়িক বিরোধ, নাকি পুরনো অপরাধজগতের হিসাব-নিকাশ?
শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল জানান, “ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের আশংকা
দিনদুপুরে জনবহুল এলাকায় এমন হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রকি মাহমুদের মৃত্যু শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয় এটি বগুড়ার স্থানীয় ক্ষমতা, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এবং অপরাধচক্রের অদৃশ্য সংঘাতের প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত কত দ্রুত সত্য উদ্ঘাটন করতে পারে এবং এই হত্যার পেছনের আসল গল্প সামনে আসে কিনা।