আয়োজক কমিটির সদস্য শিলন খাঁন জানান, কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একত্রিত করা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই সমর্থকেরা কমিউনিটি সেন্টার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন। অনেকেই আর্জেন্টিনার জার্সি পরে এবং হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আয়োজক কমিটির আরেক সদস্য হৃদয় খান বলেন, “ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি কোটি মানুষের আবেগের নাম। আমরা চাই বিশ্বকাপকে ঘিরে মেহেরপুরের মানুষ আনন্দমুখর পরিবেশে একত্রিত হোক। সেই লক্ষ্য থেকেই আমাদের এই আয়োজন।”
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসগুলোকে আর্জেন্টিনার পতাকা, ব্যানার ও নীল-সাদা রঙের বিভিন্ন সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। শোভাযাত্রা শুরু হলে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।
নীল-সাদা রঙে সজ্জিত সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো শহর যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনায় পরিণত হয়। শোভাযাত্রাটি মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কমিউনিটি সেন্টার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পথিমধ্যে সমর্থকেরা আর্জেন্টিনার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিশ্বকাপে দলের সাফল্য কামনা করেন।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী মোহাম্মদ হিজন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই আমাদের মধ্যে আলাদা এক অনুভূতি কাজ করে। আজকের এই আয়োজন সেই ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। আমরা আশা করি আর্জেন্টিনা এবারও ভালো খেলবে এবং সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করবে।”
শুধু শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকরাই নয়, শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এ আয়োজন উপভোগ করেন। অনেক পথচারী, ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে শোভাযাত্রা দেখেন। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন।
শোভাযাত্রায় সরাসরি অংশ নিতে না পারা অনেক আর্জেন্টিনা সমর্থক শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তাদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর করে তোলে। বিশেষ করে তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ রায় জানান, মেহেরপুরে বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ অনেকদিন পর দেখা গেল। ফুটবলপ্রেমীরা দল-মত নির্বিশেষে একসঙ্গে আনন্দ উপভোগ করছেন, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
আয়োজক কমিটির আরেক সদস্য সাদ্দাম হোসেন বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি খেলাধুলা মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। আমাদের এই আয়োজন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করার জন্য নয়; বরং ফুটবলপ্রেমীদের একত্রিত করার একটি প্রয়াস। আমরা চাই ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকুক।”
তিনি আরও বলেন, “মেহেরপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকের সংখ্যা অনেক। তবে এই আয়োজন শুধু আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য নয়, ফুটবলপ্রেমী সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। অনেক ভিন্ন দলের সমর্থকরাও আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।”
বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই নিজ নিজ বাড়ি, দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনায় প্রিয় দলের পতাকা টানিয়েছেন। চায়ের দোকান, বাজার ও বিভিন্ন আড্ডাস্থলে বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা জমে উঠেছে। কারা শিরোপা জিতবে, কোন খেলোয়াড় সেরা পারফরম্যান্স দেখাবে—এসব নিয়ে চলছে নানা ধরনের বিশ্লেষণ ও আলোচনা।