নতুন ঘোষণায় ৩০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের প্রতি ইউনিটের দাম ১৪ টাকা ৬১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা করা হয়েছে, যা প্রায় ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সঙ্গে সেচ পাম্পের বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা ৭৬ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা ৭৩ পয়সা। এছাড়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন চার্জিং খাতেও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগবে নিম্ন আয়ের পরিবার ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ওপর। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ‘লাইফলাইন’ সুবিধার ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়ায় এসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল তুলনামূলক বেশি বাড়বে।
তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রভাব কেবল বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। ফলে সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
অধ্যাপক তামিমের মতে, দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাত ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎনির্ভর। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোজ্যতেল, প্লাস্টিক শিল্প এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণসহ প্রায় সব খাতেই বিদ্যুতের ব্যবহার রয়েছে। ফলে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
কৃষি খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, বর্তমানে সেচব্যবস্থার বড় অংশ বিদ্যুৎনির্ভর হওয়ায় বিদ্যুতের দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের বাজারে পড়তে পারে।
ভর্তুকি কমানোর বিকল্প উপায় হিসেবে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও বিদ্যুৎ খাতে সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক তামিম। তিনি বলেন, অদক্ষতা ও অপচয় কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ভর্তুকির চাপও কমানো সম্ভব।
একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শিল্প-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বড় ছাদসমৃদ্ধ স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ফলে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও গৃহস্থালি—সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়াবে এবং এর চূড়ান্ত চাপ বহন করতে হবে ভোক্তাদের।
তিনি অভিযোগ করেন, সিস্টেম লস, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা কমানোর পরিবর্তে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো হয়েছে। তার মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনতে পারে।