বুধবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার জোড়গাছা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শয়ন জোড়গাছা গ্রামের মৃত টিপু মন্ডলের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং স্বেচ্ছাসেবক দল-এর কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রুমি-এর ভাতিজা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার কিছু আগে বাজার এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ করে শয়নের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বুকে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম আসাদুজ্জামান জানান—ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ। এটি কি পরিকল্পিত হামলা? নাকি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সংঘটিত ঘটনা? এই প্রশ্নগুলোই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে। এক তরুণের মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়—এটি একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ, একটি এলাকার নিরাপত্তাবোধে আঘাত। সারিয়াকান্দির এই হত্যাকাণ্ড আবারও সামনে নিয়ে এলো সহিংসতার নির্মম বাস্তবতা। এখন সবার নজর পুলিশের তদন্তে—কে বা কারা, কেন এই হামলা চালালো—সেই উত্তরই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।