র্যাব সূত্র জানায়, নিহত আরিফুল ইসলাম মুন্না (৪৩) বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় এলাকার বাসিন্দা। তার সঙ্গে একই এলাকার মোঃ সাইউম (৩৬)-এর দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে মুন্না আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে একটি চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
এরপর থেকেই আসামী সাইউম ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময় মুন্নার বাড়ির সামনে এসে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৩ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টা ২৫ মিনিটে মুন্না বাড়ির পাশের দোকান থেকে কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে অতর্কিত হামলার শিকার হন। রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ফাঁপোড় গ্রামের খন্দকারপাড়া পুরাতন মসজিদের পশ্চিম পাশে একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে আসামীরা তার পথরোধ করে।
এসময় ধারালো বার্মিজ চাকু দিয়ে মুন্নার নাভিতে আঘাত করা হয়, যা তাকে গুরুতর রক্তাক্ত করে তোলে। হামলার পর আসামীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় মুন্না নিজেই বাড়িতে পৌঁছালে তার স্ত্রী তাকে দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ মার্চ সকাল ১০টায় তিনি মারা যান।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী মোছাঃ নিলুফা ইয়াসমিন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৬৩, তারিখ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দ্রুত আসামীদের গ্রেফতারের জন্য র্যাবের সহায়তা চান। এরপরই র্যাব-১২ এর সিপিএসসি বগুড়া গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রধান আসামী মোঃ সাইউম গ্রেফতার এড়াতে রাজধানীর তুরাগ থানার কামারপাড়া এলাকার পুরাতন বাজারে আত্মগোপনে রয়েছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ মার্চ বিকেল আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১২ ও র্যাব-১ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন সিপিএসসি বগুড়া, র্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যা মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নতুন করে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তঃজেলা সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে রাজধানী থেকে আসামী গ্রেফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জিএম মিজান বগুড়া প্রতিনিধি ০১৭১৩৭২২৮০১