ওই ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পাড়ায় শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার ইউনিয়নের বেসরকারি একটি অনাথ আশ্রমের এক শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে বলে জানা গেছে। মারা যাওয়া শিশুর নাম চাংমুম ম্রো (৮)। দুর্গম এলাকা হওয়ায় গতকাল বুধবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। চাংমুম ম্রোর বাড়ি উপজেলার কুরকপাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।
সূত্রে জানা যায়, আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের প্রেন্নয় নামের একটি অনাথ আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করত চাংমুম ম্রো। গত মঙ্গলবার রাতে জ্বর, সর্দি থেকে হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। হামের লক্ষণ থাকায় গত এক সপ্তাহে অনাথ আশ্রমটির ৪০টি শিশুকে আলীকদম হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, এখনো তাঁর ইউপির উজিপাড়া, ছোট ব্যাটি, বড় ব্যাটি পাড়া'সহ বিভিন্ন পাড়ায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত বহু শিশু রয়েছে। এরমধ্যে গত ১১ এপ্রিল দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো রিংলতপাড়ার লুকুন ম্রোর সাত মাসের ছেলে খতং ম্রো ও লেংক্লাং ম্রোর তিন মাসের মেয়ে জংরুং ম্রো। তবে ওই দুই শিশুর মৃত্যু হামে নয় বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. হাসান জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬ জন এসেছিল। এদের মধ্যে ৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গত বুধবার থেকে ভর্তি আছে ৯ জন। এপর্যন্ত ১৫ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গত দুই সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১ জন রোগী এসেছে। এদের মধ্যে ২৮ জনকে ভর্তি করা হয়। ভর্তির রোগীর মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৫ জন। ১৩ জন সুস্থ হয়ে ফিরেছে।
আলীকদমের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) মো. হানিফ জানান, চাংমুম ম্রো নামে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। তবে তাঁর মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আগামী শনিবার থেকে কুরুকপাতা ইউনিয়নে ক্রাশ প্রোগ্রাম নেওয়া হবে। প্রত্যেক ওয়ার্ডে দুজন করে স্বাস্থ্যকর্মী যাবেন। তারা প্রত্যেক ঘরে গিয়ে খোঁজ নেবেন। হামের উপসর্গে অসুস্থ দশ বছরের নিচে কাউকে পাওয়া গেলে হাসপাতালে নিয়ে আসা হবে।
বান্দরবানের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, দুর্গম ও স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাবে ম্রো সম্প্রদায়ের মধ্যে ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ও হামের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।