মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাগেরহাট প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রুবি আনজুম এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি নরসিংদী জেলায়। দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় ‘রুবি হেয়ার অ্যান্ড বিউটি সেলুন’ পরিচালনা করে আসছেন। মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা রুস্তম আলীর ছেলের সাথে জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। জাহাঙ্গীর পূর্বের স্ত্রীর সঙ্গে বৈধভাবে তালাক হয়েছে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে বিয়ে করেন রুবি।
রুবির দাবি, বিয়ের সময় জাহাঙ্গীর বেকার ছিলেন। করোনা মহামারির সময় নিজের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে স্বামীর ব্যবসা দাঁড় করাতে প্রায় ৫০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত দেন। পরে বিভিন্ন সময়ে আরও আর্থিক সহযোগিতা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে জানতে পারেন জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করেছেন এবং তাঁর আগেও একাধিক স্ত্রী রয়েছেন। তাঁর দাবি, জাহাঙ্গীরের প্রথম স্ত্রী শিউলি বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী সুরাইয়া ওরফে হাওয়া বেগম, তৃতীয় স্ত্রী তানিয়া এবং চতুর্থ স্ত্রী তিনি নিজে।
সংবাদ সম্মেলনে রুবি আরও অভিযোগ করেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার সোনাতলা এলাকার এক গৃহবধূর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীরের পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং উল্টো মানসিক নির্যাতন ও হুমকি দিতে থাকেন।
রুবির অভিযোগ, জাহাঙ্গীরের দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। বিভিন্ন নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলেরও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগের পক্ষে তাঁর কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া থেকে জাহাঙ্গীর তাঁর ১৯০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও ৭ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। এ ঘটনায় তিনি মালয়েশিয়ায় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন।
রুবির অভিযোগ, পরে বাগেরহাটে এসে স্বামীর বাড়িতে গেলে তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়। এ সময় জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রুবি আনজুম তাঁর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পাওনা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধার এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।"