বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব গোষ্ঠী রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রাখা হয়েছে—মার্কিন নাগরিক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, কূটনৈতিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো, হোটেল, বিমানবন্দর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত অন্যান্য স্থান। পাশাপাশি ইরাকের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুও ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো অতীতে মার্কিন নাগরিকদের অপহরণের চেষ্টা করেছে। এর প্রেক্ষাপটে দুই দিন আগে বাগদাদে এক মার্কিন সাংবাদিক অপহৃত হওয়ার ঘটনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের প্রতি জরুরি সতর্কতা জারি করে বলেছে, ‘মার্কিন নাগরিকদের এখনই ইরাক ত্যাগ করা উচিত।’
বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ হামলা চালানোর অঙ্গীকার করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ জানায়, ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এই যুদ্ধ চলবে—আপনাদের অপমান, পরাজয়, স্থায়ী অনুতাপ ও আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আরও কঠোর, বিস্তৃত এবং ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার মতো হামলা চালানো হবে।
হোয়াইট হাউসে দেওয়া জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে গত চার সপ্তাহে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল নয়, তবে মিত্রদের সহায়তার জন্য অঞ্চলটিতে অবস্থান করছে।
তিনি সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনসহ আঞ্চলিক মিত্রদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, ‘আমরা তাদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেব না।’
ভাষণে ট্রাম্প পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
তিনি দাবি করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘ইসরাইলের মৃত্যু’ স্লোগান দিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন হামলার পেছনে তাদের ভূমিকা রয়েছে।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, তার প্রশাসন আগেই সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছে এবং ২০২০ সালে ইরানের কুদস ফোর্সের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল।
ট্রাম্প দাবি করেন, চলমান সামরিক অভিযানের ‘মূল লক্ষ্য প্রায় অর্জিত’ এবং যুদ্ধ শেষের পথে। তবে প্রয়োজন হলে আরও কঠোর হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে তারা আরও বড় ও ধ্বংসাত্মক পাল্টা আঘাত হানবে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল