বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ করেই ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকায় ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়ে একযোগে অভিযান শুরু করে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
বেশ কিছুদিন ধরেই উপকূলীয় বন্দরনগরী মোখাকে নিশানা করছিল তারা। এবার শহরটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে একঘরে করে দেওয়া এবং লোহিত সাগরের প্রবেশ পথটি নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এই গোষ্ঠী। সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর ৩৯ জন সেনা এবং অন্তত ৪২ জন হুথি বিদ্রোহী নিহত হয়েছে।
পাহাড়ি এলাকাগুলোতে হুথিদের এই আধিপত্য ইয়েমেন সরকারের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। উঁচু পাহাড়ি জায়গাগুলো দখল করায় সেখান থেকে সাগরে যাতায়াত করা যেকোনো জাহাজে হামলা চালানো হুথিদের জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে। আক্রমণ ঠেকিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে সৌদি আরবের নির্দেশে এডেন থেকে তায়েজ এলাকায় অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে দেশটির সরকার।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বাবেল মান্দেব অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। এটি মূলত সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগর ও ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে। ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় সারা বিশ্বের নজর এখন বাবেল মান্দেবের দিকে। এমন পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরের এই ব্যস্ততম পথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া মানেই বৈশ্বিক তেলের বাজার ও বাণিজ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে নেওয়া।
দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর গত জুলাই মাসে ইয়েমেনের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হুথিরা সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমানকে স্বাগত জানালে দুই পক্ষের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে টিকে থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি পুরোপুরি ভেঙে যায়। এরপর হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধের ডাক দেয় এবং একের পর এক জাহাজ ও সৌদি সীমানায় হামলা চালানো শুরু করে। এর ফলে নতুন করে চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।
সূত্র: তুর্কিয়ে টুডে।