এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৈঠক শেষে তিনি স্বীকার করেন, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য এতটাই গভীর যে আপাতত কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। যুদ্ধবিরতি বা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই দুই পক্ষ বৈঠক শেষ করে নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে। ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে জাগা শান্তির আশা অনেকটাই নিভে গেছে।
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দেন। ট্রাম্প ঘোষণা করেন, কোনো জাহাজ ইরানকে শুল্ক দিলে তা আটকানো হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের তেল রপ্তানি ও আয়ের পথ বন্ধ করা।
একই সঙ্গে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র বা কোনো শান্তিপূর্ণ জাহাজে হামলা চালায়, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর তারা শান্তির আশা করেছিলেন, যা এখন ভেঙে গেছে। অন্যদিকে তেল আবিবের এক শিক্ষকের মতে, শুরু থেকেই এই আলোচনার সফলতা নিয়ে সংশয় ছিল, কারণ দুই দেশ একেবারে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলে এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতকে সফল মনে করছেন।
সংঘাতের এই আশঙ্কার মধ্যেই সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল পাইপলাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো তারা পুনরায় সচল করেছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন অবরোধ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
লেবাননেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগেই ইসরায়েলি হামলা জোরদার হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়ের দিকে এগোচ্ছে। আগামী কয়েক দিন এই অঞ্চলের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।