সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্যে বিষয়টি উত্থাপন করার পর দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ কি তার অমূল্য প্রত্নসম্পদ হারিয়েছে? আর যদি হারিয়েই থাকে, তবে এত বছর বিষয়টি চাপা ছিল কেন?
সোমবার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৭ সালে ফ্রান্সে প্রদর্শনীর জন্য বাংলাদেশের তিনটি জাদুঘর থেকে প্রত্ননিদর্শন পাঠানো হয়। এর মধ্যে মহাস্থানগড় জাদুঘরের ৪৭টি মূর্তিও ছিল। প্রথম চালান যাওয়ার পর দ্বিতীয় চালান পাঠানোর সময় বিমানবন্দর থেকেই একটি মূর্তি রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায়। পরে পুরো প্রদর্শনী বাতিল করা হয়।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—ফেরত আসা মূর্তিগুলো কখনো যাচাইই করা হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, “মূর্তিগুলো আসল কি-না, সেটাই কেউ নিশ্চিত করেনি।” অভিযোগ রয়েছে, মহাস্থান জাদুঘরের পাশের স্টোররুমে এখনো সেই সময়কার বহু নিদর্শন পড়ে আছে, যেগুলো সাধারণের দেখার সুযোগ নেই।
প্রত্নতত্ত্ব গবেষকদের মতে, মহাস্থানগড় শুধু একটি প্রত্নস্থল নয়, এটি বাংলাদেশের হাজার বছরের সভ্যতার জীবন্ত দলিল। মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন আমলের অসংখ্য বিরল শিল্পকর্ম এখান থেকে উদ্ধার হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব প্রত্নমূর্তির মূল্য কোটি থেকে শতকোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় ঘটনার পরও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি। হারানো মূর্তি কোথায় গেল, ফেরত আসা নিদর্শন আসল নাকি প্রতিলিপি, কারা দায়িত্বে ছিল—এসব প্রশ্ন দুই দশক ধরে অন্ধকারেই রয়ে গেছে।
বগুড়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষজন বলছেন, এটি শুধু প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় ভয়াবহ উদাসীনতার প্রতিচ্ছবি।
ঘটনার পর এখন ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি যাচাই করবে—৪৭টি মূর্তি পুরোপুরি ফেরত এসেছে কি-না, সেগুলো আসল নাকি রেপ্লিকা, বিমানবন্দরে হারানো মূর্তিটি মহাস্থানের ছিল কি-না এবং তৎকালীন কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি ছিল কি-না।
প্রায় দুই দশক পর শুরু হওয়া এই তদন্ত ঘিরে এখন একটাই প্রশ্ন—হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের সত্য কি অবশেষে সামনে আসবে?