আরাঘচি লন্ডনের ‘আল-আরাবি আল-জাদিদ’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালী সাধারণত পুরোপুরি বন্ধ থাকে না। তবে যতদিন ইরানে হামলা চলবে, ততদিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য এই পথ বন্ধ থাকবে। তিনি আরও জানান, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান অন্যান্য দেশের সাথে আলোচনায় বসতে আগ্রহী এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু দেশ তাদের কাছে নিরাপদ যাতায়াত চেয়েছে।
উল্লেখ্য যে, পারস্য ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে গত ৩ মার্চ ইরান এই পথটি আংশিক বন্ধ করে দেয়। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনিও তার প্রথম ভাষণে এই অবরোধ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিবিএস নিউজকে এক হতাশাজনক তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, আমেরিকা ও ইসরাইলের অব্যাহত হামলায় ইরানের সবগুলো পারমাণবিক স্থাপনা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আরাগচি বলেন, আপাতত এই কেন্দ্রগুলো পুনরুদ্ধারের কোনো পরিকল্পনা আমাদের হাতে নেই।
তিনি আক্ষেপ করে আরও যোগ করেন, আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে যখন আলোচনার পথ খোলা ছিল, তখন ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার বড় ধরনের ছাড় দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সংঘাত সব হিসাব বদলে দিয়েছে। এখন আলোচনার টেবিলে কিছুই নেই এবং সবকিছু ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরান তার আকাশসীমা ও ভূখণ্ড রক্ষায় অনড় অবস্থানে রয়েছে। বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী আগেই সতর্ক করেছিল, এই পথ দিয়ে শত্রুপক্ষের কোনো জাহাজ চলাচল করলে তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। বর্তমান জ্বালানি সংকটের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হলেও ইরান কেবল বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর জন্যই হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার নীতিতে অটল রয়েছে।
ইরানের এই ঘোষণা থেকে স্পষ্ট যে, তারা হরমুজ প্রণালীকে একটি কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সাথে আলোচনার সুযোগ রাখলেও আমেরিকা ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখাই এখন তেহরানের মূল লক্ষ্য।