রোববার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সিলেটে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভালো নির্বাচন হলেই ভালো শাসক হওয়ার প্রমাণ নেই। রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে বর্তমান সরকার জুলাই সনদকে উপেক্ষা করেছে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের রায়কে বাতিল করেছে। সাড়ে ১৭ বছর পর এবার একটা অর্থবহ নির্বাচন জাতি আশা করেছিল। নির্বাচন সুন্দর হলেও ফলাফলে কারসাজি করা হয়েছে, যা এখন অনেকে স্বীকার করছেন। তবে জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে আমরা ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম, কারণ তা না হলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিল। আর যেসব দেশে একবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে, তারা আর সেখান থেকে বের হতে পারেনি।
সীমান্তে অব্যাহত উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ওপার থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দুই দুইবার স্বাধীন হলাম, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পেলাম কী? জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আমরা কোনো আপোষ করব না।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিক বলেন, বেনজীরকে আটক করা দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটি ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্টও বর্তমান সরকার জারি করেনি। তবে বেনজীর আটক হওয়া বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন। কিন্তু তিনি দুবাইয়ের কারাগারে থাকবেন নাকি দেশে আনা হবে, তা সম্পূর্ণ সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
সংসদে নিজেদের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে বিরোধী দল চরমপন্থা ও গরমপন্থা অবলম্বন করবে না, বরং মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। সংসদকে আর আমরা মমতাজের সংসদ বানাতে চাই না। আজকেও সংসদে একজন দাঁড়িয়ে আল্লাহর বিধান পর্দার বিরুদ্ধে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন। সরকারি দল ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে জাতির সাথে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের রায় ব্যর্থ হলে টেকসই গণতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে লড়াই চলবে, তবে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশ ভালো থাকবে।
প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাজেটে অনেক কিছু ওয়েভার এসেছে। তবে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও মোটরসাইকেলের ওপর সরকার কর বসাবে কি না তা স্পষ্ট নয়। সবচেয়ে বড় বিষয়, দুর্নীতি বন্ধ আর দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না—এই দুটি বিষয়ের স্পষ্ট উল্লেখ বাজেটে নেই। দেশে এক কোটি মানুষ ট্যাক্স দেওয়ার মতো থাকলেও কেন শুধু ৩৪ লাখ মানুষ ট্যাক্স দিচ্ছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সীমান্তে পুশইন সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ বিজিবির সহযোগী হয়ে উসকানির সৃষ্টি করে এমন কোনো কাজ আমরা মেনে নেব না। সেটা যদি মুসলমানরা করে, তাও মেনে নেব না; আবার অন্য ধর্মের কেউ করলেও মেনে নেব না। এ দেশ আমাদের সবার। যে পদক্ষেপ নিলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা হয়, সেটাই করতে হবে এবং সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিলেট জেলা আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ ও মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, লেবারপার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, এলডিপির সিলেট জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও জেলা সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।